Home / এসইও / ব্যাকলিংক (Backlink) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
What is Backlink

ব্যাকলিংক (Backlink) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

​ব্যাকলিংক (Backlink), এই শব্দটি আমরা যারা এসইও জগতে কাজ করি তাদের কাছে অনেক পরিচিত এবং কিছুটা বিভ্রান্তিকরও বটে। আমার এই শব্দটির ব্যবহারে হয়তবা অনেকেই মনে করছেন “বিভ্রান্তিকর” কেন বললাম?

​আসলে আমরা অনেকেই জানিনা যে, ব্যাকলিংক (Backlink) প্রকৃতপক্ষে কি এবং কিভাবে এটি আমাদের সাইটের জন্য কাজ করে।

​তো আসুন আজকের আমরা এই ব্যাকলিংক (Backlink) নিয়েই আমাদের আলোচনাটা শুরু করি।

​আজকে আমি যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো সেগুলি হচ্ছে:

​আপনারা হয়ত ভাবছেন আমি তো এখানে ব্যাকলিংক (Backlink) করার যে উপায়গুলি আছে সেগুলি নিয়ে কোনো কথা বলছি না। জ্বি, আমি এ বিষয়টি নিয়ে এই লেখার মধ্যে কোনো আলোচনা করবো না, তবে আগামীতে এই লেখার আরো কিছু পর্ব আমি পাবলিশ করবো। যেখানে ভালোমানের ব্যাকলিংক (Backlink) তৈরি করার উপায় নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো।

​ব্যাকলিংক (Backlink) কি?


​ব্যাকলিংক হচ্ছে একটি এক্সটারনাল লিংক (External Link) যা অন্য একটি ওয়েবসাইট থেকে আপনার সাইট পেয়ে থাকে।

​আরো সহজভাবে বললে, যখন একটি ওয়েবসাইট আপনার সাইটকে একটি লিংক দেয়।

Backlink

​উপড়ের ছবিটিতে দুটি  ওয়েবসাইট দেখানো হয়েছে। যেখানে আপনার ওয়েবসাইটটিকে অপর সাইট থেকে লিংক করা হয়েছে।

​এখন আপনার মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, বাইরের ঐ সাইটটি কেন আপনাকে ব্যাকলিংক দিবে?

​উত্তরে আমি একটি উদাহরন দিচ্ছি, মনে করুন আপনার এক বন্ধু আপনার কাছে জানতে চাইলো যে সে কিভাবে এসইও শিখতে পারে। আর আপনি তাকে বললেন যে, YouTube এ মো: ফারুক খানের ভিডিও দেখো।

​একটু ভেবে দেখুন এখানে আমি কিন্তু আপনাকে বলিনি যে, আপনি আপনার বন্ধুর কাছে আমার YouTube ভিডিও দেখার জন্য বলেন। কিন্তু আপনি তাকে বলেছেন, কারন আপনার মনে হয়েছে আমার ভিডিও দেখলে সে সহজেই এসইও শিখতে পারবে।

​এই যে আপনার মাধ্যমে আমার একজন ভিউয়ার বাড়লো অর্থাৎ আপনার বন্ধু আমার চ্যানেলে আসলো, এটাই ব্যাকলিংক

​সাইটে ব্যাকলিংক (Backlink) কেন দরকার?


​আমার মতে, মূলত তিনটি কারনে একটি সাইটের জন্য ব্যাকলিংক করা হয়।

  • ​অথোরিটি তৈরি করা
  • ​সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকে আসা
  • ​ভিজিটরের সংখ্যা বাড়ানো

​এখানে অথোরিটি বলতে বোঝানো হচ্ছে আপনার সাইটের ভ্যালু বাড়বে।

​অর্থাৎ , একটু আগেই আমি যে উদাহরনটি দিলাম ঐটা আর একবার ভাবুন। আপনি যখন আপনার বন্ধুর কাছে আমার কথা বলছেন তখন কিন্তু আপনার বন্ধু আমার সম্পর্কে একটি ভালো ধারনা লাভ করছে, সুতরাং আমার অথোরিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

​আর যখন আপনার সাইট বাইরের বিভিন্ন সাইট থেকে এমন ব্যাকলিংক পাবে, তখন সার্চ ইঞ্জিন ও আপনার সাইটকে গুরুত্ব বেশী দিবে এবং র‌্যাংক প্রদান করবে।

​আর যখন আপনি সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করবেন তখন আপনার সাইটর অরগানিক ভিজিটর সংখ্যা বাড়বে।

​আশাকরি এখন বুঝতে পারছেন যে, কেন একটি ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক প্রয়োজন।

​লিংক এর বৈশিষ্ট গুলি কি?


​একটি লিংক এর ২টি বৈশিষ্ট (Attribute) রয়েছে:

Do Follow vs No Follow

১. নো-ফলো (No-Follow)

​নো-ফলো(No-Follow) হচ্ছে একটি HTML Attribute, যা সার্চ ইঞ্জিন বটকে বলে দেয় যে, এই লিংকের জন্য ঐটার্গেট পেজটিকে সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিং এ যেনো কোনো ভ্যালু দেয়া না হয়।

​অর্থাৎ, সার্চ ইঞ্জিন বট আপনার ঐ লিংটিকে আর ফলো করবে না। আর সার্চ ইঞ্জিন বট যদি লিংটিকে ফলো না করে তাহলে ঐ লিংকের মধ্যে দিয়ে কোনো লিংক জুস (Link Juice) পাস হবে না। 

​লিংক জুস (Link Juice) হচ্ছে একটি লিংকের পাওয়ার, যার মাধ্যমে লিংকে থাকা পেজটি ভ্যালু পেয়ে থাকে।

​সাধারনত, ঐসকল পেজকে আমরা নো-ফলো দিবো যেগুলি খুব বেশী অথোরিটি সম্পন্ন নয়, বা আমাদের অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলি নো-ফলো হবে।

​নো-ফলো লিংকের উদাহরন:

​<a href=”http://www.google.com/” rel=”nofollow”>Google</a>

​আপনারা যারা ওয়ার্ডপ্রেসে কাজ করবেন, তাদের জন্য অনেক ভালো একটি প্লাগিন আছে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই একটি লিংকে নো-ফলো করতে পারবেন, প্লাগিনটি হল: Rel Nofollow CheckBox

২. ​ডু-ফলো (Do-Follow)

​আপনি যদি লিংকের বৈশিষ্ট্য নো-ফলো না করেন তাহলে ডিফল্ট ভাবে লিংকটি ডু-ফলো করা থাকে।

​একটি লিংক যদি ডু-ফলো হয়, এর অর্থ হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন বট লিংকের মধ্যে দিয়ে পাস হয়ে টার্গেট পেজে চলে যাবে।

​এখন আপনি বলতে পারেন এতে লাভ কি?

​হ্যা, লাভ আছে।

​সেটি হচ্ছে, আপনার সাইটে লিংক জুস পাস হবে।  অর্থাৎ, সার্চ ইঞ্জিন বট এই লিংকের কারনে টার্গেট পেজকে র‌্যাংক পেতে সহায়তা করবে।

​যদিও বা এখানে আরো কিছু বিষয় রয়েছে, শুধু ডু-ফলো লিংক হলেই হবে না, আপনাকে যে পেজটি লিংক দিচ্ছে তার অবস্থানও সার্চ ইঞ্জিনে ভালো হতে হবে। তাহলেই আপনি এমন ডু-ফলো লিংক পেলে লাভোবান হবেন।

​ডু-ফলো লিংকের উদাহরন:

​<a href=”http://www.google.com/”>Google</a>​

​ইন্টারনাল (Internal Link) এবং এক্সটারনাল (External Link) লিংক কি?


​ইন্টারনাল লিংক (Internal Link): আপনি যখন একটি ওয়েবসাইটের ভিতরের একটি পেজের/পোষ্টের সাথে অপর পেজের/পোষ্টের লিংক করবেন তখন তাকে ইন্টারনাল লিংক বলে। একে Inbound Link ও বলে।

​সার্চ ইঞ্জিনে একটি সাইট র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে Inbound Link এর গুরুত্ব অনেক বেশী। কারন, সঠিক ইন্টারনাল লিংকের মাধ্যমে আপনার সাইটের সকল পেজের/পোষ্টের মধ্যে লিংক জুস সঠিক ভাবে পাস হতে পারে। একারনে, ইন্টারনাল লিংক সাধারনত ডু-ফলো (Do-Follow) হয়ে থাকে।

এক্সটারনাল লিংক(External Link): আপনি যখন আপনার ওয়েবসাইটের ভিতরের কোনো পেজের/পোষ্টের সাথে অপর একটি ওয়েবসাইটের পেজের/পোষ্টের লিংক করবেন তখন তাকে এক্সটারনাল লিংক বলে। এর অপর নাম Outbound Link

​যেহেতু, এক্সটারনাল লিংক এর মাধ্যমে বাইরের সাইটকে লিংক দেয়া হয় একারনে এক্সটারনাল লিংক সাধারনত নো-ফলো (No-Follow) হয়ে থাকে। তবে, এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। কারন হাই-অথোরিটি সাইটকে অনেকেই ডু-ফলো লিংক দিয়ে থাকে।

​বিষয়টি অনেকটা তেলে মাথায় তেল দেয়ার মতো। যার আছে তাকে আরো দাও।

​কি করলে আপনি ভালোমানের ব্যাকলিংক পেতে পারেন?


​আপনারা এটা নিশ্চই বুঝে গেছেন যে, একটি ভালো মানের ব্যাকলিংক পাওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। এর জন্য আপনার সাইটিতে কিছু গুনাবলী থাকতে হবে। যেমন:

  • ​আপনার সাইটটি টেকনিক্যাল এরর (Technical Error) ফ্রি একটি সাইট হতে হবে। এখানে টেকনিক্যাল এরর বলতে বোঝানো হচ্ছে:
  • ​Site loading speed problem
  • Mobile friendliness problem
  • Duplicate content
  • 404 errors
  • Canonical errors
  • Duplicate Meta data
  • ​আপনার সাইটটির ডিজাইন এবং আর্কিটিকচার ইউজার ফ্রেন্ডলি হতে হবে। যাতে করে একজন ইউজার সহজেই আপনার সাইট নেভিগেট করতে পারে।
  • ​আপনার সাইটের কন্টেন্ট (Content) ভালো মানের হতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপর্ণ। কারন আপনার কন্টেন্ট ভালো হলেই আপনার কন্টেন্ট পেজকে অন্যান্য ইউজাররা শেয়ার করবে, সবার কাছে পৌছে দেবে। আর এভাবেই আপনি অন্যের চোখে পড়বেন এবং আপনার পেজকে অন্যান্য রিলিভেন্ট পেজ থেকে ব্যাকলিংক দিবে।

​আশাকরি উপড়ের আলোচনা থেকে আমি আপনাদের ব্যাকলিংক (Backlink) কি এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।

​আগামীতে আমি চেষ্টা করবো কিভাবে ব্যাকলিংক (Backlink) তৈরি করবেন, অর্থাৎ ব্যাকলিংক (Backlink) তৈরি করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করতে।

​সবাই ভালো থাকবেন। আর পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে।

Check Also

Off Page Strategies

২০১৮ সালের অফ-পেজ এসইও (Off-Page SEO) কৌশল কি হওয়া উচিত

শুরুটা একটু গল্প মাধ্যমে করি। মনে করুন আপনার নাম “A” । আপনি এসইও শিখতে চান …

14 comments

  1. একই সাইটে পূর্বে প্রকাশিত কোন লেখায় পরে প্রকাশিত লেখার লিংক দেয়া যাবে কি?

  2. ভাইয়া, পোস্টের জন্য প্রথমেই অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার একটা ছোট খটকা আছে আর সেটা হল গুগুল তো ওয়েবমাস্টার এ নোফলো ব্যাকলিংক গুলোও ইনডেক্স করছে। তাহলে সে কি নোফলো ব্যাকলিংক থেকে আমাকে একটুও বেনিফিট দিবে না?

    • ধন্যবাদ আসিফ, অবশ্যই ডু-ফলো ব্যাকলিংকের পাশাপাশি নো-ফলো ব্যাকলিংকও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অবশ্যই উচিত সাইটে ২ধরনেরই ব্যকলিংক তৈরি করা।

  3. আল্ মামুন

    ধন্যবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখার জন্য!

  4. Backlink nia kono video thakle please share it. anyway, helpful post.thanks…

  5. Very very effective for me …Thanks for the nice topic.Fee Amanillah.

  6. Faruk Vai…. amar ekta WordPress Site Ache .post korle Top 1 Google First Page Thakto ..ekhon post korle khujey pai nah ekdom sesher 3 no patay chole jay etar somdhan ki? Reply Nedded.

    • এটা অনেক কারনেই হতে পারে, আপনার সাইটের অথোরিটি গুগলের কাছে কমে গেছে বা গুগল প্যাণাল্টি দিয়েছে, বা আপনার কন্টেন্ট কোয়ালিটি ভালো না

  7. ধন্যবাদ স্যার। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করার জন্য। বর্তমানে গুগল কোন কোন লিংকগুলোকে বেশি ভ্যালু দিচ্ছে? আর সাইটে ডুফলো ও নোফলো লিংকের Perchantag কেমন হওয়া দরকার?
    Broken Link-Building করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি নিয়ে একটা পোস্ট আশা করছি।

  8. স্যার পরের আর্টিকেলটির জন্য অপেক্ষায় রইলাম।আশা করি পরের আটিকেল এ উইকিপিডিয়ার মতো সাইট থেকে ব্যাকলিংক পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করবেন।

  9. very informative post for newbie like me, Thanks

  10. MD Mahabub Hasan

    Nice Post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares