Home / সোশ্যাল মিডিয়া / ইউটিউব (YouTube) আপডেট ২০১৮ | নতুন বিজ্ঞাপন নীতিমালা
YouTube Update

ইউটিউব (YouTube) আপডেট ২০১৮ | নতুন বিজ্ঞাপন নীতিমালা

হ্যালো! শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। কেমন আছেন সবাই? অনেকেই জেনে থাকবেন জানুয়ারীর ১৬ তারিখ গুগল তাদের ব্লগে নতুন একটি আপডেট জানিয়েছে, যে তারা তাদের বিজ্ঞাপন নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এখন থেকে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য আপনার চ্যানেলে সর্বনিম্ন ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম (Watch time 4000 Hours) এবং ১০০০ সাবসক্রাইবার (1000 Subscriber) থাকতে হবে। এবং এটি কার্যকর হবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ থেকে।

অর্থাৎ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে আপনার চ্যানেলে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম এবং ১০০০ সাবসক্রাইবার না থাকলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাবে আপনা আপনি। সম্প্রতি এই ঘোষনার পর অনেকেই YouTube এর এই সিদ্ধান্তের প্রতি হতাশা জানিয়েছেন। বিশেষ করে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের অনেকেই ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করে থাকেন। অনেকেই স্যোশাল মিডিয়াতে এ ব্যাপারে তাদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। চলুন জেনে নেই কেন ই বা ইউটিউব এ ধরনের একটা আপডেট আনলো এবং এর পিছনের কারন গুলো কি

ইউটিউব বিজ্ঞাপন (YouTube Ads) নীতিমালা পরিবর্তনের আগের কথা

বেশ অনেকদিন ধরেই ইউটিউবের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ ছিলো যে প্রচুর পরিমানে ডিস্টার্বি এবং এবিউজিং ভিডিও প্রচার করছে ইউটিউব। যা কমিউনিটি স্টান্ডার্ড মেইনটেইন করে না। বিশেষ করে কয়েকটি কিডস চ্যানেল নিয়ে অভিযোগ ছিলো বেশি। শুধু মাত্র টাকা আয়ের জন্য অনেকে লো কোয়ালিটির ভিডিও যা ইউটিউবের কমিউনিটি স্টান্ডার্ড মেইনটেইন করে না তার মাধ্যমে আয় করছিলো।

এর মাঝেই ২০১৭ সালের এপ্রিলের ৬ তারিখ ইউটিউব নতুন কিছু আপডেট আনে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একটি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য ওই চ্যানেলে সর্বমোট ১০,০০০ ভিউ (10000 View) থাকতে হবে। অর্থাৎ আগে যেকোনো চ্যানেল তৈরি করে সাথে সাথেই সেটাতে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য আবেদন করা যেতো এটা বন্ধ করে ইউটিউব নতুন করে নিয়ম চালু করলো যে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য সর্বনিম্ন ১০,০০০ ভিউ থাকতে হবে।

ইউটিউব ধরপাকড় নভেম্বর ২০১৭

এর মাঝে নভেম্বরে আমরা দেখতে পেলাম এক দফা “ধরপাকড়”। তখন যা হয়েছে তার সাথে “ধরপাকড়” শব্দটাই সম্ভবত বেশি মানানসই। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই ইউটিউব অনেক চ্যানেল সাসপেন্ড করা শুরু করে। অনেক জন্প্রিয় চ্যানেলও সাসপেন্ড হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৮.৫৩ মিলিয়ন ( প্রায় ৮৬ লক্ষ) সাবসক্রাইবারের “Toy Freaks” চ্যানেলটি। এটি ছিলো একজন সিংগেল ফাদার এবং তার ২ মেয়ের চ্যানেল। উল্লেখ্য চ্যানেলটি Daily Mail এর মতে ছিলো “ Wildly Popular Youtube Channel”, কারন মাত্র ২ বছর সময়ে ৮.৫৩ মিলিয়ন সাবসক্রাইবার অর্জন করা খুব সহজ না। যদিও ইউটিউব এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেনি যে কেনো তারা “Toy Freaks” চ্যানেলটিকে সাসপেন্ড করেছে তবে ধরনা করা হয় ডিস্টার্বি এবং কিছু এবিউজিং কন্টেন্ট এর কারনে চ্যানেল টি সাসপেন্ড করা হয়।

শুধু বর্হিবিশ্বে না, নভেম্বরে এই ইউটিউব সাসপেন্ডের ডেউ এসে লাগে বাংলাদেশেও। জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ শিরাজ এবং টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের ইউটিউব চ্যানেলও সাসপেন্ড হয় এই মাসে। যদিও চ্যানেল দুটি আবার ফেরত দিয়েছে ইউটিউব।

ইউটিউব এর নতুন আপডেটের কারন কি?

এতো এতো নতুন নিয়মের বেড়াজালে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করাটাই অনেকের জন্য এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নতুন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এতে বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন এরকম নতুন নতুন আপডেটের কারন কি? সত্যি বলতে পৃথিবীতে সবকিছুই পরিবর্তনশীল। যুগ এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার পথে অনেক সংযোজন এবং বিয়োজন করারটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর ইউটিউব সেটাই করছে।

ইউটিউব চেষ্টা করছে তাদের ওয়েবসাইটকে আরো ইউজার ফ্রেন্ডলি কিভাবে করা যায় তার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন দাতাদেরও সার্থরক্ষা কিভাবে করা যায়। এর বাইরে ইউটিউবের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ানো অন্যতম প্রতিদ্বন্দী ফেসবুক ভিডিও মার্কেটিং এর উপর জোড় দেয়াটাও এর পিছনে অন্যতম কারন হতে পারে। তবে অদূর ভবিষতে ইউটিউব তাদের আরো কিছু নতুন আপডেট নিয়ে আসলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে যেটা প্রধান এবং অণ্যতম কারন সেটা হলো কন্টেন্ট কোয়ালিটি (Content Quality)। ইউটিউব চায় ভালো কোয়ালিটির কন্টেন্ট। যাতে করে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা খরচ করতে সংকোচ না করে। তাই একটা ব্যাপার নিশ্চিত থাকা যেতে পারে যে খারাপ এবং বাজে কোয়ালিটির ভিডিওর রাজত্বের দিনে আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাবে। এখন শুধু যথাযথ কোয়ালিটির কন্টেন্টই টিকে থাকবে।

YouTube Monetization এর ব্যাপারে কিভাবে সতর্ক থাকা যাবে ?

নতুন আপডেটের পর অনেকের মাথাতেই অনেক ধরনের দুষ্টুবুদ্ধি চেপে বসেছে কি ধরনের ওয়েতে ভিউ এবং সাবসক্রাইবার বাড়ানো যায়। তবে এ ব্যপারে ইউটিউব যে বেশ কঠোর হবে ১৮ জানুয়ারী গুগল এডওয়ার্ড ব্লগে এ এ ব্যাপারে পরিস্কার ধারনা দেয়া হয়েছে, যদি একটা লাইন আমরা ফলো করি

Instead of basing acceptance purely on views, we want to take Channel Size, Audience Engagement, and Creator Behavior into consideration to determine eligibility for ads.

From Google Blog

এখানে গুগল বিজ্ঞাপন দেখানো অর্থাৎ monetization এর ব্যাপারে মোট ৩টা পয়েন্ট এর কথা উল্লেখ করেছে।

Channel Size

শুরুতে ইউটিউবে যেকোনো চ্যানেল খুলেই ইনকাম করা যেতো। এরপর নতুন নিয়ম এলো ১০ হাজার ভিউ এর রেস্ট্রিকশন। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী ইউটিউবের ঘোষনায় উল্লেখ করা হয়েছে কোনো চ্যানেলের Monetization চালু করতে হলে তার সর্বনিম্ম ১০০০ জনের সাবসক্রাইবার থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনার চ্যানেলে যদি ভিডিও এর সংখ্যা বেশী না থাকে তাহলে আপনি কখনই এই সাবসক্রাইবার পাবেন না। 

Audience Engagement

Audience Engagement এর ব্যাপার টা ইউটিইবের আগের আপডেটেই ছিলো। যে নতুন চ্যানেলের Monetization এর জন্য ১০,০০০ ভিউ প্রয়োজন হবে। এবার ভিউ হিসেব বাদ দিয়ে সেটাকে করা হয়েছে ৪,০০০ ঘন্টা।

এংগেজমেন্টের মত ব্যাপার গুলো আগে ভিডিও র‌্যাংক করাতে প্রয়োজন ছিলো কিন্ত একটা ইউটিউব এবার শুরুতেই নিয়ে এসেছে যার অন্যতম কারন হলো স্কিপেবল ভিডিও এড। মূলত স্কিপেবল ভিডিও এড গুলো ভিডিওর শুরুতেই আসে। এরপর বাজে কোনো কন্টেন্ট হলে ভিজিটর সেটা স্বাভাবিক ভাবেই স্কিপ করে। তাই ভিজিটর বা দর্শক যদি বাউন্স ব্যাক করে অর্থাৎ ভিডিওর শুরুতেই বের হয়ে যায়, প্রাপ্ত ভিও এর তুলনায় লাইক ডিজলাইক এবং শেয়ারের না থাকে তাহলে সে চ্যানেলের Monetization অন হওয়ার সম্ভবনা কম। তারমানে আপনাকে এমন ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতে হবে যাতে করে আপনি Audience এর Engagement ধরে রাখতে পারেন।

Creator Behavior

এটা একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। ব্যাপার টা এমন না যে ১০০০ সাবসক্রাইবার আর ৪০০০ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকলেই যে আপনার চ্যানেলের Monetization চালু করে দিবে এমন কোনো নিশ্চয়তা ইউটিউব দিচ্ছে না। এখানে Behavior বলতে মূলত কন্টেন্ট কোয়ালিটি কে বোঝানো হয়েছে। ইউটিউব তার ভালো একজন ক্রিয়েটরের কাছ থেকে ভাল মানের কন্টেন্ট ই আশাকরে। তাই অশ্লীল, এবং লো-কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানিয়ে যারা ভিউ কামিয়েছে তাদের দিন অাস্তে আস্তে শেষ হয়ে আসছে বলা যায়।

করনীয় কি?

প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে এখন করনীয় কি? তাহলে কি ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েট করা বন্ধ করে দিবেন?

না।

কারন আপনি যদ ভালো কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি করেন তাহলে এটা আপনার জন্য একটা সুযোগ ই বলা যায়। কারন ইউটিউব এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে লো কোয়ালিটি কন্টেটের দিন আস্তে আস্তে ফুরিয়ে আসছে। সর্বশেষ এটাই বলবো যে আপনাকে আরো বেশী সময় দিতে হবে। সবসময় মাথায় রাখতে হবে সফলতার কোনো শর্টকাট ওয়ে নেই।

ইউটিউব শিখুন মাত্র ২০০০ টাকা

১ দিনের একটি ওয়ার্কশপ (৪-৬ ঘন্টা)

আপনারা যারা নতুন এবং ভাবছেন ইউটিউব নিয়ে কাজ করবেন এবং আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার তৈরি করবেন শুধু মাত্র তাদের জন্য আমি একটি কোর্সের সুযোগ নিয়ে আসছি।

আপনারা যারা ঢাকার বাইর থাকেন তারা চাইলে কোর্সটি অনলাইনে করতে পারেন।​

বি:দ্র: কোর্সটি শুধুমাত্র আমার বাছাইকৃত সর্বোচ্চ ১০/১৫জন শিক্ষার্থী নিয়ে করা হবে।

আগ্রহী প্রার্থী আজই রেজিষ্ট্রেশন করুন।​ কোনো সার্টিফিকেট দেয়া হবে না।

এই আর্টিকেলে পর্যাপ্ত সাড়া পেলে আপনারা চাইলে “ইউটিউব আপেডেটের পর এখন কিভাবে চ্যানেলের ভিউ বাড়ানো যায়” এ ব্যাপারে পরবর্তী আর্টিকেল লিখবো। আজ এ  পর্যন্তই।

যদি লেখাটি আপনার কছে তথ্যবহ এবং দরকারী মনে হয় তাহলে আশা করছি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।

9 comments

  1. thank u sir valo laglo cintent ta pore .

    tobe amr aktii prosno silo .. ai view and subscribe ki akti nirdisto somoyer moddhe hote hobe naki jekono somoy .

  2. Hlw brother i like you very much.go ahead bro. I have a request can you give me in google drives your seo full corch video.i will be very glad and thankfull you. My google drives adrees amirhasan252@gmail.com

  3. শাহাদাত

    আমি যদি এক বছরের মধ্যে না পারি তাহলে কি আমার চ্যানেল বন্দ হয়ে যাবে??

  4. Great guide. I would like to learn more amazing ideas from your blog.Subscribed.. ! Love to be here. Thanks for a beautiful update.

  5. চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব বাড়াবো কি ভাবে ?

  6. মোঃ ওবায়দুল্লাহ

    ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares