Home / ফ্রিল্যান্সিং / ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) কি ও ফ্রিল্যান্সিং কেন করবেন? ১০টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এর আদ্যোপান্ত
Freelancing - ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) কি ও ফ্রিল্যান্সিং কেন করবেন? ১০টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস এর আদ্যোপান্ত

ফ্রিল্যান্সিং কি?

ফ্রিল্যান্সিং (FREELANCING) বা বাংলায় মুক্ত পেশা বা স্বাধীন পেশা। অর্থাৎ, কোন প্রতিষ্ঠান বা ধরাবাধা নিয়ম কানুনের ভিতর না থেকে স্বাধীন বা মুক্ত ভাবে কাজ করা। অন্যান্য পেশার মানুষদের তুলনায় এই পেশার কাজের ধরন ও উপার্জন অনেকটাই ভিন্ন।

গতানুগতিক পেশা থেকে বেরিয়ে ভিন্ন ধারার এই মুক্তপেশা এখন তরুনদের অন্যতম সেরা পছন্দ। এখানে নেই কোন ধরাবাধা নিয়ম কানুন। নেই কোন সময়ের নির্দিষ্টতা। সব থেকে মজার বিষয় হল একটি কম্পিউটার/মোবাইল আর ইন্টারনেট হলেই অনায়াসে যেকোন জায়গায় বসে কাজ করা যায়।

আর ইনকাম? সেটা অন্য যেকোন পেশার চেয়ে দ্বিগুন, তিনগুন বা বহুগুন। তুলনামুলক কম সময় দিয়ে অনেক অর্থ উপার্জন সম্ভব তাই এটি অত্যন্ত আকর্ষনীয় পেশা। রয়েছে কাজের ভিন্নতা ও নিত্য নতুন মজার জিনিস শেখার ও জানার সুযোগ।

কেন করবেন ফ্রিল্যান্সিং?

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস
ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় ও আকর্ষনীয় পেশা। কিন্তু কেন? আসুন জেনে নেই কেন করবেন ফ্রিল্যান্সিং।

  • ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ
  • তুলনামুলক কম সময়ে বেশি ইনকাম
  • সময়ের বাধ্যবাধকতা নাই
  • নিজেই নিজের বস
  • যেকোন যায়গায় বসে কাজ করার সুযোগ
  • বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে কাজের সুযোগ
  • পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ
  • অনলাইনে সব সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়
  • পরিবারকে সময় দেওয়া যায়
  • নিত্য নতুন বিষয় শেখার ও জানার সুযোগ
  • স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর সুযোগ

উপরোক্ত কারণ গুলোই ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তার মুল কারণ।

ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্র

বর্তমানে বিভিন্ন কাজ ফ্রিল্যান্সিং হিসাবে করা যায়। তাদের ভিতর বেশ কিছু তুমুল জনপ্রিয়। সেগুলো হল-

  • ওয়েব ডিজাইন
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং
  • ডাটা এন্ট্রি
  • এডমিন সাপোর্ট
  • ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট
  • কন্টেন্ট রাইটিং
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
  • সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
  • কোল্ড কলিং
  • অনলাইন রিসার্চ, ইত্যাদি

কোথায় করবেন? মার্কেটপ্লেস-

বর্তমানে বেশ কিছু মার্কেটপ্লেস বা ফ্রিল্যান্সিং কাজের যায়গা রয়েছে। মার্কেটপ্লেস গুলোর রয়েছে ব্যভার ভিন্নতা। একেকটি একেক ধরনের হওয়ায় ফ্রিল্যান্সাররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী বেছে নেয় পছন্দের মার্কেটপ্লেস। এগুলোর ভিতর কিছু মার্কেটপ্লেস তুমুল জনপ্রিয়। যেমন-

১। আপওয়ার্ক (www.upwork.com)

UpWork

অনলাইনে বেশ কিছু মার্কেটপ্লেসের ভিতর জনপ্রিয়তার শীর্ষে আপওয়ার্ক। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার দের অন্যতম পছন্দ আপওয়ার্ক। পুর্বে ইল্যান্স ও ওডেক্স সম্মিলিত ভাবে আপওয়ার্ক নামে যাত্রা শুরু করে। অন্য মার্কেটপ্লেসের চেয়ে এটি সর্বাপেক্ষা ফ্রিল্যান্সার বান্ধব। তাই ফ্রিল্যান্সারদের প্রথম পছন্দ আপওয়ার্ক।

বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্ট ও আপওয়ার্ক কে পছন্দ করে কারণ এটি আর্থিক সিকিউরিটি ও কাজের গুনমানের নিশ্চয়তা দেয়। ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সার দের মধ্যে খুব ভালো সমন্বয় করে। ফ্রিল্যান্সার দের দক্ষতা যাচাই করার জন্য মেসেজের পাশাপাশি রয়েছে অডিও ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ইন্টারভিউ নেওয়ার ব্যবস্থা। মুলত এই কারনেই ক্লায়েন্টদের মাঝে এটি বেশি জনপ্রিয়।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। আপওয়ার্ক এর কার্যপদ্ধতি শুরু হয় ক্লায়েন্ট এর জব পোস্টের মাধ্যমে। ক্লায়েন্ট তার চাহিদা অনুযায়ী জব পোস্ট করে। জব পোস্টের সময় বিভিন্ন ফিল্টার যোগ করা যায়

যেমন-

  • কোন দেশের ফ্রিল্যান্সার রা আবেদন করতে পারবে
  • কত সময়ের ভিতর কাজ শেষ করতে হবে
  • বাজেট কত
  • কত লেভেল এর ফ্রিল্যান্সার রা আবেদন করতে পারবে
  • ফ্রিল্যান্সার এর কি কি যোগ্যতা থাকা আবশ্যক
  • ঘন্টা চুক্তি বা প্রজেক্ট চুক্তি

২। ক্লায়েন্ট জব পোস্ট করার পর তার ইচ্ছা মত ফ্রিল্যান্সারদের ইন্টারভিউ এর জন্য অফার পাঠাতে পারেন বা একই ক্যাটাগরির ফ্রিল্যান্সার জব পোস্ট টি দেখে আবেদন করতে পারেন

৩। ক্লায়েন্ট আবেদন গুলো পড়ে আগ্রহী হলে মেসেজ দেন এবং ঐ কাজের জন্য প্রোয়োজনীয় দক্ষতা যাচাই বাছাই করেন।

৪। যাচাই বাছাই শেষে ক্লায়েন্ট নির্বাচিত প্রার্থী কে অফার পাঠান কাজের।

৫। ফ্রিল্যান্সার অফার এক্সেপ্ট করলে কাজ শুরু হয়ে যায়

ঘন্টা চুক্তি হলে টাইম ট্রাকার নামক সফটওয়ার চালিয়ে কাজ করতে হয়। এটি প্রতি মিনিটে ক্লায়েন্টের পুর্বে জমা কৃত টাকা থেকে কাটতে থাকে এবং ফ্রিল্যান্সারের একাউন্টে জমা হতে থাকে। কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় পর এটি পর্যায়ক্রমে ফ্রিল্যান্সার এর উত্তোলন যোগ্য অর্থ হিসাবে জমা হয়।

প্রযেক্ট চুক্তি হলে কাজ জমা দেওয়ার পর ক্লায়েন্ট এক্সেপ্ট করলে বা নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয় ভাবে ফ্রিল্যান্সারের একাউন্টে অর্থ জমা হয়।

উভয় ক্ষেত্রেই কাজের গুনমান যাচাই বাছাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকে। এবং নির্ধারিত হয় ফ্রিল্যান্সার পাবে কি না।

আবেদন প্রক্রিয়াঃ

ক্লায়েন্ট জব পোস্ট করার পর ফ্রিল্যান্সার কে আবেদন করতে হয়। তার জন্য প্রয়োজন কানেক্ট। অর্থাৎ, ফ্রিল্যান্সার কে আগে থেকে তার একাউন্টে কানেক্ট কিনে রাখতে হয়।

প্রতিটি জব এপ্লিকেশন এর জন্য কাজের বাজেট অনুযায়ী ২, ৪ বা ৬ টি করে কানেক্ট খরচ হয়। কানেক্ট কিনতে হয় Payoneer, Paypal বা অন্য ডুয়েল কারেন্সির একাউন্ট দিয়ে।

অবশ্যই জানুনঃ কিভাবে পেওনিয়ার (Payoneer) এ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন

অবশ্যই জানুনঃ EBL Aqua Card কি

আপওয়ার্ক কমিশনঃ

২০%

ফ্রিল্যান্সার র‍্যাঙ্কঃ

  • রাইজিং ট্যালেন্ট
  • টপ রেটেড
  • টপ রেটেড প্লাস

পেমেন্ট মেথডঃ

Payoneer, Paypal, etc.

ওয়েবসাইট: www.upwork.com

সিক্রেট টিপ্সঃ

১। মধ্যরাত বিড করার উপযুক্ত সময়
২। ৫ স্টার রেটিং নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে
৩। নতুন ক্লায়েন্ট দের জব এ বিড করলে নতুনদের কাজ পাবার সম্ভাবনা বেশি

২। ফাইভার (www.fiverr.com)

Fiverr

ফাইভার বিশ্বের অন্যতম আরেকটি মার্কেটপ্লেস। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে এটিকে দ্বিতীয় অবস্থানে ধরা হয়। বিশ্বের বহুসংখ্যক মানুষ তাদের কাজ ভার্চুয়ালি করিয়ে নিচ্ছে ফাইভারের সাহায্যে।

এই মার্কেটপ্লেসটি শুরুর দিকে ছিল ৫ ডলারের কাজের জন্য জনপ্রিয়। ক্রমশ তারা তাদের পরিসর বাড়িয়েছে। এখন হাজার হাজার ডলারের এ মার্কেটপ্লেস জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসের তুঙ্গে। অন্যান্য মার্কেটপ্লেস গুলোর মত এখানে কাজ পেতে গেলে কোন খরচ করতে হয়না তাই এটি ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।

কার্যপদ্ধতিঃ

ফ্রিল্যান্সার দের এখানে একটি বাধ্যতামূলক একাউন্ট থাকতে হবে। এখানে সার্ভিস সেলিং এর প্রধান উপকরণ হল গিগ। অর্থাৎ, ধরুন আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার। আপনি লোগো ডিজাইন, ব্রোশার ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, ও ইনফোগ্রাফিক্স ডিজাইন করেন।

এগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে একেকটি গিগের মাধ্যমে সাজাতে পারেন। প্রতিটা গিগে থাকবে সার্ভিস এর নাম, সার্ভিসের বর্ণনা, মুল্য, সময়কাল, ইত্যাদি। প্রতিটা সার্ভিসের জন্য আলাদা আলাদা গিগ। একেকটি ক্যাটাগরিতে গিগ গুলো তৈরী করতে হয়।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার ও অন্যান্য অনেক উপায়ে গিগ মার্কেটিং করা যায়। ফলে গিগ র‍্যাঙ্ক করে। ক্লায়েন্ট নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি তে সার্চ দেয় এবং তুলনামুলক সার্চ রেজাল্টের উপরের দিকের গিগ গুলো বেশি প্রায়োরিটি পায়। তাই সুন্দর ভাবে গিগ সাজানো অত্যাবশ্যক।

১। সমস্ত তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরী করা ও ১০০% সম্পন্ন করা
২। সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে SEO ফ্রেন্ডলি কিওয়ার্ড দিয়ে গিগ বানানো
৩। দৃষ্টি আকর্ষনীয় গিগ ইমেজ তৈরী করা
৪। গিগ মার্কেটিং করা
৫। বায়ার রিকুয়েস্ট পাঠানো
৬। সব সময় একটিভ থাকা

পর্যায়ক্রমে উপরোক্ত প্রক্রিয়া গুলো ফলো করলে গিগ আস্তে আস্তে র‍্যাঙ্ক করে ও বায়ার বা ক্লায়েন্ট নক করে এবং কাজ পাওয়া যায়।

ফাইভার কমিশনঃ

২০%

ফ্রিল্যান্সার র‍্যাঙ্কঃ

  • নিউ সেলার
  • রাইজিং ট্যালেন্ট
  • লেভেল-১ সেলার
  • লেভেল-২ সেলার
  • টপ রেটেড সেলার

পেমেন্ট মেথডঃ

Payoneer, Paypal, etc.

ওয়েবসাইট: www.fiverr.com

সিক্রেট টিপসঃ

১। সবসময় একটিভ থাকা বাঞ্ছনীয়
২। ৫ স্টার রেটিং নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে
৩। যত দ্রুত সম্ভব প্রথম কাজ পাওয়া উচিত
৪। গিগ মার্কেটিং নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে

৩। ফ্রিল্যান্সার (www.freelancer.com)

Freelancer

ফ্রিল্যান্সার অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি মার্কেটপ্লেস যা ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সার মূলত নিখুঁত কাজের জন্যই বায়ার মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মূলত এখানে ক্লায়েন্ট জব পোস্ট করে ২ টি উপায়ে। কনটেস্ট বা প্রোজেক্ট। পুর্বে কনটেস্ট অধিকতর জনপ্রিয় থাকলেও বর্তমানে প্রোজেক্ট আকারেও অনেক কাজ পাওয়া যাচ্ছে।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। ক্লায়েন্ট দুটি ক্যাটাগরিতে জব পোস্ট করতে পারে। কনটেস্ট আকারে বা প্রজেক্ট আকারে।
২। কনটেস্ট আকারে জব পোস্ট করলে ফ্রিল্যান্সার রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কন্টেস্ট এ অংশগ্রহন করে এবং কাজ সাবমিট করে। ক্লায়েন্ট কাজগুলোর ভিতর পছন্দমাফিক কাজ বেছে নেয়।
৩। প্রোজেক্ট আকারে জব পোস্ট করলে ফ্রিল্যান্সার সংশ্লিষ্ট কাভার লেটার সহ বিড করতে পারে। ফ্রিল্যান্সারের করা বিড থেকে ক্লায়েন্ট যোগ্য প্রার্থী কে বেছে নেয় এবং প্রোজেক্ট শেষ করার পর ফ্রিল্যান্সার অর্থ পায়
৪। ফ্রিল্যান্সার ফ্রি তে বা ডলার খরচ করে বিড করতে পারে।
৫। ফ্রিল্যান্সার ঘন্টা চুক্তি বা প্রোজেক্ট অনুযায়ী কাজ পেতে পারে।

ফ্রিল্যান্সার কমিশনঃ

১০% পর্যন্ত

পেমেন্ট মেথডঃ

Payoneer, Paypal, Skrill, etc.

ওয়েবসাইট: www.freelancer.com

সিক্রেট টিপসঃ

১। আমেরিকান অফিশিয়াল টাইম একটিভ থাকা বাঞ্ছনীয়
২। ৫ স্টার রেটিং নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে
৩। যত দ্রুত সম্ভব প্রথম কাজ পাওয়া উচিত

৪। পিপল পার আওয়ার (www.peopleperhour.com)

People Per Hour

বাংলাদেশ তথা বিশ্বে পিপল পার আওয়ার অপর একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। কার্যপ্রনালীতে এটি ফাইভার ও আপওয়ার্ক এর সম্মিলিত রুপ ও বলা যায়। অর্থাৎ এখানে সার্ভিস সেল ও করা যায় এবং ক্লায়েন্টের জব পোস্ট এ বিড ও করা যায়।

ডুয়েল মার্কেটপ্লেস হওয়ার কারনে পিপল পার আওয়ার দিন দিন অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে। অন্যান্য মার্কেটপ্লেসের চেয়ে এই মার্কেটপ্লেসের রেট তুলনামূলক বেশি।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। পদ্ধতি ২টি । আওয়ারলি ও জব পোস্ট
২। অপেক্ষাকৃত ছোট কাজের জন্য আওয়ারলি সেরা। সাধারণত ১-৫ দিনের কাজের জন্য আওয়ারলি সেরা।
৩। আওয়ারলি তে কাজের ধরণ বর্ননা, মুল্য, সময় ইত্যাদি উল্লেখ করে আওয়ারলি পোস্ট করতে হয়। বায়ার এটি দেখে অর্ডার করতে পারেন
৪। অন্য ভাবে বায়ার জব পোস্ট করেন তার চাহিদা অনুযায়ী এবং ফ্রিল্যান্সার উক্ত জব এ বিড করে কাজ নিতে পারেন।

পিপল পার আওয়ার কমিশনঃ

২৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ২০%, ২৫০-৫০০০ পাউন্ড পর্যন্ত ৭.৫%, ৫০০০+ পাউন্ড ৩.৫%

পেমেন্ট মেথডঃ

Payoneer, Paypal, Skrill, etc.

ওয়েবসাইট: www.peopleperhour.com

সিক্রেট টিপসঃ

১। আমেরিকান অফিশিয়াল টাইম একটিভ থাকা বাঞ্ছনীয়
২। ৫ স্টার নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে
৩। যত দ্রুত সম্ভব প্রথম কাজ পাওয়া উচিত
৪। নির্ধারিত সময়ের ভিতর ই কাজ শেষ করা উচিত

৫। ৯৯ডিজাইনস (www.99designs.com)

99 Desgins

৯৯ডিজাইনস মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইন ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। দেশ বিদেশের গ্রাফিক্স ডিজাইনার রা এখানে কাজ করে থাকেন। শুধুমাত্র গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা কাজ করেন বলে এখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। প্রফেশনালদের মার্কেটপ্লেস হওয়ায় নিজেকে যাচাই করার অনেক সুযোগ রয়েছে এখানে।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। ৯৯ ডিজাইনস কনটেস্ট ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস।
২। বায়ার ডিজাইন কনসেপ্ট প্রস্তুত করে কনটেস্ট শুরু করে।
৩। ফ্রিল্যান্সার নির্ধারিত সময়ের পুর্বে এক বা একাধিক ডিজাইন জমা দিতে পারে
৪। বায়ার কনটেস্ট এ অংশগ্রহণকারী দের ডিজাইনের ভিতর থেকে পছন্দমত ডিজাইন নির্বাচন করে ও বিজয়ী ঘোষণা করে।
৫। কন্টেস্ট বিজয়ী হলেই কেবল মাত্র ফ্রিল্যান্সার ডলার পেতে পারে।
৬। কন্টেস্টের মাধ্যমে ১০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
৭। প্রতিযোগিতা ১-৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

৯৯ ডিজাইনস কমিশনঃ

প্রযোজ্য নয়

পেমেন্ট মেথডঃ

Payoneer, Paypal, Skrill, etc.

ওয়েবসাইট: www.99designs.com

৯৯ডিজাইনস ফ্রিল্যান্সার র‍্যাঙ্কঃ

  • এন্ট্রি লেভেল
  • মিড্ লেভেল
  • টপ লেভেল

সিক্রেট টিপসঃ

১। ইউনিক ডিজাইন করুন
২। একাধিক ডিজাইন করুন
৩। বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে ডিজাইন করতে পারেন।

৬। টপটাল (www.toptal.com)

Toptal

টপটাল অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মত আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস। বহির্বিশ্বে এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে টপটাল এইচপি, এয়ারবিএনবি, মটোরোলার এবং জেন্ডেস্ক এর মত শীর্ষ ব্র্যান্ড গুলোর সাথে কাজ করে অর্জন করেছে কোটি মানুষের আস্থা। এখানে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের অল্প সময়েই খুব ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতা কম থাকায় স্বল্প সময়ে উন্নতি করা সম্ভব।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। ক্লায়েন্ট সরাসরি ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করতে পারে
২। সাধারণত তিনটি ক্যাটাগরিতে ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করা যায়। আওয়ারলি, পার্ট টাইম, ও ফুল টাইম।
৩। আওয়ারলি রেট $৬০ থেকে $২৫০। পার্ট টাইম রেট সপ্তাহে $১০০০ থেকে $৪০০০। ফুলটাইম রেট সপ্তাহে $২০০০ থেকে $৮০০০।
৪। ক্লায়েন্ট তার কাজের চাহিদা ও সময় সীমা অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করতে পারে।

টপটাল পেমেন্ট মেথডঃ

ক্রেডিট কার্ড, পেপাল, ব্যাঙ্ক ওয়ারস, ইত্যাদি

ওয়েবসাইট: www.toptal.com

টপটাল ফ্রিল্যান্সার র‍্যাঙ্কঃ

টপটাল প্রফেশনালদের মার্কেটপ্লেস হওয়ার কারনে আলাদা ভাবে এখানে র‍্যাঙ্কিং এর ব্যাবস্থা নাই। এখানে সব ফ্রিল্যান্সারই দক্ষ।

টপটাল সিক্রেট টিপসঃ

১। সকল কাজ সঠিক সময়ে ডেলিভারী দেওয়া
২। ৫ স্টার নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে
৩। নিখুঁত কাজ বাঞ্ছনীয়।

৭। ক্রাউড সোর্স (www.crowdsource.com)

CrowdSource

ক্রাউড সোর্স অন্যান্য ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেস গুলোর চেয়ে ভিন্ন ধর্মী আকটি মাধ্যম। এখানে তুলনামূলক কম ধরনের ক্যাটাগরিতে কাজ হয়।  ইবে, কোকাকোলার মত নামী ব্র্যান্ড গুলো ক্রাউড সোর্স এর সাথে কাজ করে। নিঃসন্দেহে ক্রাউড সোর্স একটি ভালো প্লাটফর্ম। 

কার্যপদ্ধতিঃ

১। এখানে কাজ করতে গেলে ফ্রিল্যান্সার দের ট্রেনিং এবং টেস্ট বাধ্যতামুলক
২। শুধুমাত্র দক্ষ ফ্রিল্যান্সার রাই এখানে কাজ করার সুযোগ পায়
৩। প্রতিটি কাজ সুক্ষ ভাবে এবং ক্লায়েন্ট ফ্রেন্ডলি ভাবে করা হয়।
৪। প্রতিটি কাজের শেষে দুই ধাপে কোয়ালিটি চেক করে কমপ্লিট করা হয়।
৫। সফল ভাবে সম্পন্ন করতে পারলে ফ্রিল্যান্সার কে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। কাজে অসফল হলে পরবর্তী কাজ পাওয়া কঠিন।
৬। সরাসরি ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সারের সম্পর্ক থাকে না তাই এটা শুধু মাত্র দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সর্বোত্তম।

ক্রাউড সোর্স পেমেন্ট মেথডঃ

ক্রেডিট কার্ড, পেপাল, ব্যাঙ্ক ওয়ারস, ইত্যাদি

ওয়েবসাইট: www.crowdsource.com

ক্রাউড সোর্স সিক্রেট টিপসঃ

১। সকল কাজ সঠিক সময়ে ডেলিভারী দেওয়া
২। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা
৩। নিখুঁত কাজ আবশ্যক

৮। গুরু (www.guru.com)

Guru

বর্তমান সময়ে গুরু অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোর ভিতর জায়গা করে নিচ্ছে। দিন দিন ক্রমশই এটি জনপ্রিয় হচ্ছে। এটি ফ্রিল্যান্সার ও ক্লায়েন্ট উভয়ের জন্যই বেশ সুবিধাজনক প্লাটফর্ম।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। ক্লায়েন্ট চাহিদা অনুযায়ী যেকোন ক্যাটাগরিতে জব পোস্ট করে।
২। এখানেও ফিক্সড প্রাইস ও আওয়ারলি দুই ধরনের জব পোস্ট করা যায়।
৩। গুরু ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সার উভয়ের কাছ থেকেই খুব কম চার্জ কাটে।
৪। ফ্রিল্যান্সার দের ফ্রি ও প্রিমিয়াম দুই ধরনের ক্যাটাগরি রয়েছে।
৫। ফ্রি মেম্বারশিপ এ কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিন্তু প্রিমিয়াম মেম্বারশিপে রয়েছে অনেক সুযোগ সুবিধা।
৬। ফ্রি মেম্বারশিপ একাউন্ট থেকে গুরু ৯% কমিশন কাটে ও প্রিমিয়াম মেম্বারশিপে ৫% পর্যন্ত কমিশন কাটে।
৭। ক্লায়েন্ট জব পোস্ট করলে বিড করে কাজ পাওয়া যায়। বিডিং এর ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম মেম্বার রা বেশি সুবিধা পায়।

গুরু পেমেন্ট মেথডঃ

U.S. Bank Account (eCheck), PayPal, Payoneer, Wire Transfer, ইত্যাদি

ওয়েবসাইট: www.guru.com

গুরু সিক্রেট টিপসঃ

১। সকল কাজ সঠিক সময়ে ডেলিভারী দেওয়া
২। ভালো ফিডব্যাক নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে

৯। কোডেবল (www.codeable.io)

Codeable

কোডেবল মূলত ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলপার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার দের মার্কেটপ্লেস। অর্থাৎ যারা কোড নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য উপযুক্ত। এখানে শুধু মাত্র প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত কাজ হয় তাই তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতা। কোডেবল উ-কমার্স, গ্রাভিটি, ইত্যাদি নামি ব্র্যান্ডের আস্থা অর্জন করেছে ইতোমধ্যে।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। ক্লায়েন্ট সরাসরি ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করতে পারে
২। ক্লায়েন্ট তার চাহিদা অনুযায়ী জব পোস্ট করে থাকে।
৩। ফ্রিল্যান্সার রা জব এ বিড করতে পারে আবার ক্লায়েন্ট তার পছন্দ অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার কে হায়ার করতে পারে।

কোডেবল পেমেন্ট মেথডঃ

ক্রেডিট কার্ড, পেপাল

কমিশনঃ

১৭.৫%

ওয়েবসাইট: www.codeable.io

কোডেবল সিক্রেট টিপসঃ

১। সকল কাজ সঠিক সময়ে ডেলিভারী দেওয়া
২। ৫ স্টার নতুন কাজ পেতে সাহায্য করে
৩। নিখুঁত কাজ বাঞ্ছনীয়।

১০। ফ্রিল্যান্স রাইটিং (www.freelancewriting.com)

Freelance Writing

ফ্রিল্যান্স রাইটিং কনটেন্ট সম্পর্কিত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এই মার্কেটপ্লে সাধারণত যাদের কন্টেন্ট লেখার দক্ষতা রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী। রাইটার দের জন্য এটি আদর্শ জায়গা। কারণ ঝামেলা ছাড়াই ক্লায়েন্ট এখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিল্যান্স রাইটার খুজে পায়।

কার্যপদ্ধতিঃ

১। ফ্রিল্যান্স রাইটিং কন্টেন্ট ভিত্তিক মার্কেটপ্লেস।
২। ফ্রিল্যান্সার রা তাদের স্যাম্পল ও নিজেদের সম্পর্কে বিস্তারিত দিয়ে প্রোফাইল তৈরী করে।
৩। ফ্রিল্যান্সার রা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে।
৪। বায়ার স্যাম্পল দেখে বা যাচাই করে অর্ডার করতে পারে।
৫। বায়ার তিনটি ক্যাটাগরিতে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করতে পারে। প্রতি কন্টেন্ট এর জন্য, মাসিক $৯৯৯ চুক্তি তে, ও কাস্টম প্রাইসিং এ।

ফ্রিল্যান্স রাইটিং পেমেন্ট মেথডঃ

Paypal, Credit card, etc.

ওয়েবসাইট: www.freelancewriting.com

ফ্রিল্যান্স রাইটিং সিক্রেট টিপসঃ

১। ইউনিক কন্টেন্ট লিখুন
২। SEO ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লিখুন
৩। কিওয়ার্ড ভিত্তিক কন্টেন্ট লিখুন

বর্তমান সময়ে মানুষ ফ্রিল্যান্সিং এ দিকেই বেশি ঝুকছে। মানুষের জীবনযাত্রা যত বেশি কঠিন হচ্ছে মানুষ তত ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছে। এর মুল কারণ ঘরে বসেই অনায়াসে বিপুল পরিমান অর্থ উপার্জন করা যায়। ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন মার্কেটপ্লেস তৈরী হচ্ছে। বর্তমানে এটি নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ পেশা গুলোর একটি।

About Md Faruk Khan

আমি মো ফারুক খান, ফাউন্ডার এবং সিইও খান আইটি। যদিও এর আগেও আমার একটি পরিচয় আছে, আমি একজন এসইও এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ট্রেইনার। আমি এখন পর্যন্ত বিআইটিএম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, পেন্সিলবক্স ট্রেনিং এবং টেকনো বিডি ছাড়াও আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং করিয়েছি। আমার মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৩০০০+ এছাড়াও আমি ওয়ালটন, হাতিল ফার্নিচার, কেয়া, ইফাদ গ্রুপ এবং ইসলামী ব্যাংক সহ ১০০+ দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

Check Also

Paypal or Xoom

পেপাল (PayPal) নাকি জুম (Xoom) বিতর্কের শেষ কোথায়

24shares Love This Facebook LinkedIn Print বর্তমান সময়ের তরুনদের পছন্দের পেশা ফ্রিল্যান্সিং । বর্তমানে দেশের …

2 comments

  1. ATAHER AL IMRAN

    Sir ami seo shikhte chai. But Financial Problem karone kuno jagai admit hote parchina. Kuno waya ache ki shikhar jnno?

    • বর্তমানে স্যারের একটি কোর্সে ৭০% ডিসকাউন্ট দিয়ে ৩ হাজার করানো হচ্ছে। আপনি চাইলে সেই কোর্সটিতে জয়েন করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://training.mdfarukkhan.com/local-seo-training/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *