Home / এসইও / গুগল র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর – পর্ব ০৫
Google Ranking Factor

গুগল র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর – পর্ব ০৫

গুগলের  গুরুত্বপূর্ন র‌্যাকিং ফ্যাক্টর” নিয়ে ৫ম আর্টিকেলে সবাইকে স্বাগতম। পুরো সিরিজ আর্টিকেলে আপনাদের আগ্রহ ব্যাস্ততার মাঝেও আমাকে লিখতে  উৎসাহ যোগাচ্ছে।

যারা “গুগলের  গুরুত্বপূর্ন র‌্যাকিং ফ্যাক্টর” নিয়ে আমার  লেখা  ১ম , ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ  আর্টিকেল টি পড়েন নি,  আশাকরি তারা এই সিরিজির আগের আর্টিকেল গুলো পড়ে নিবেন।

পূর্বের আর্টিকেলে আমরা মূলত  “গুগলের  গুরুত্বপূর্ন র‌্যাকিং ফ্যাক্টর”  গুলোর ব্যাকলিংক ফ্যাক্টর নিয়ে জেনেছি এ পর্বেও ব্যাকলিংকের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করবো।

চলুন শুরু করা যাক….

৫১.  কম্পিটিটর লিংক –  ওয়েবপেজকে গুগলের সার্চ রেজাল্টের ১ম পেজে আনার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের লিংকবিল্ডি স্ট্রাটেজি ব্যবহার করে থাকি। এর মধ্যে আপনার ই কোনো কম্পিটিটর থেকে যদি আপনি লিংক নিতে পারেন তবে অন্যান্ন যেকোনো লিংকের থেকে কম্পিটিটরের থেকে পাওয়া লিংক কে গুগল বেশি  ভ্যালু দিবে।

যে প্রশ্নটা সবার আগে আসবে, তা হলো….. কম্পিটির এর থেকে কিভাবে লিংক পাবো? (খুব শীঘ্রই লিংক বিল্ডিং স্ট্রাটেজি নিয়ে সাইটে আর্টিকেল পাবলিশ হবে)




সব থেকে সহজ এবং গুরুত্বপূর্ন উত্তরহলো “কন্টেন্ট”। কম্পিটিরের থেকে আপনাকে লিংক পেতে হলে আপনার কন্টেন্টের কোয়ালিটি কতে হবে খুবই ভালো মানের যাতে করে আপনার কম্পিটিটর নিজ থেকেই আপনাকে লিংক দিতে আগ্রহী হয়।

৫২. স্পামি/ খারাপ লিংক  – যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্য স্পামি লিংক খুবই খারাপ একটি ব্যাপার। আপনি SEO ইন্ডাস্ট্রি তে কাজ করলে হয়তো “Negative SEO” টার্মটি সম্পর্কে কখনো না কখনো শুনেছেন।মূলত স্পামি,পর্ন এবং বিভিন্ন ধরনের খারাপ ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক করাকেই Negative SEO বলে।  কেউ কেউ তার কম্পিটিরের ওয়েবসাইটকে আউটর‌্যাংক করানোর জন্য Negative SEO করে থাকে।  তাই আপনার সবসময় সতর্ক থাকতে হবে আপনার ওয়েবসাইট টি যেনো কোনো ভাবেই Negative SEO এর কবলে পড়ে। তারপর ও কোনোভাবে সাইট  Negative SEO দ্বারা আক্রান্ত হলে সার্চ কনসোল থেকে লিংক ডিজভাও করে দিতে হবে।

৫৩. গেষ্ট পোষ্ট  – গেষ্ট পোষ্ট ওয়েবাসইটের ব্যাকলিংক স্ট্রাটেজির অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর। নিশ রিলেভেন্ট বিভিন্ন সাইটে আপনি গেষ্ট হিসেবে কন্টেন্ট লিখতে পারেন। এবং আপনার লেখা পোষ্ট থেকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য লিংক নিতে পারেন। এই স্ট্রেটেজি টা SEO ইন্ডাস্ট্রিতে সবথেকে বহুল প্রচলিল এবং জনপ্রিয় একটি স্ট্রেটেজি।

একটা সময় ছিলো যখন নিশ রিলেভেন্ট ব্লগের মালিকদের মেইল করে কন্টেন্ট পাবলিশের অফার করে সেখান থেকে লিংক নেয়া যেতো। কিন্ত এখন যেহেতু  SEO ইন্ডাস্ট্রি টা খুব বেশি কম্পিটিশ তাই  শুধু শুধু লিংক পাওয়া যায়না বললেই চলে।

কোনো ব্লগ Owner কে মেইল পাঠানোর পর সে যদি গেষ্ট পোষ্টের জন্য ২০/৫০/১০০ ডলার চেয়ে বসে তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। যদিও গুগলের কমিউনিটি গাইডলাইনে এ ব্যাপারে স্পষ্ট বলা আছে যে লিংক নিতে হবে ন্যাচারাল ওয়েতে।  গেষ্ট পোষ্ট থেকে লিংক নেয়ার আগে সাইট টি আপনার নিশ রিলেভেন্ট কিনা এবং সাইটের মেট্রিক্স দেখে নিতে ভুলবেন না।

৫৪.  No-follow লিংক  – লিংক সাধারনত ২ধরনের হয়।

I ) Do-follow লিংক
II ) No-follow লিংক

গুরুত্বের দিক থেকে  Do-follow লিংক সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ন। কারন লিংক শুধুমাত্র Do-follow হলেই লিংক জ্যুস পাস হয়। তাই বলে সাইটের সব লিংক কি Do-follow হবে?

উত্তর – না।

কারন গুগল যদি বুঝতে পারে আপনি সার্চ রেজাল্ট ম্যানিপুলেট করার ট্রাই করছেন। ম্যানিপুলেট বলতে টাকা দিয়ে লিংক কিনে আপনার ওয়েবসাইট লিংক করাতে চাচ্ছেন তাহলে আপনার সাইট নির্ঘাত পেনাল্টি পাবে।

অনেকেই দেখি এভাবে চিন্তা করে, টাকা দিয়ে লিংক নিলে No-follow ক্যানো নিবো? এটা একটা মারাত্বক ভুল ধারনা। ব্যাকলিংক করার সময় মাথায় রাখতে হবে লিংক গুলো যেনো Do-follow এবং No-follow মিক্স হয়।

৫৫.  301 Redirect – বেশ কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি ওয়েবসাইট ধ্রুত র‌্যংক করার 301 Redirect বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এখানে কোনো একটা এক্সিস্টিং পেজকে রিলেভেন্ট অন্য কোনো পেজে পার্মানেন্টলিং রিডিরেক্ট করাকে 301 Redirect বলে। 301 Redirect এ কিছু সমস্যাও আছে। আপনি ঠিকভাবে 301 Redirectকরতে না পারলে ওয়েবাসাইট র‌্যাংক তো করবেই না বরং সাইটের র‌্যাংক ডাউন হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই এ ব্যাপারে পরিষ্কার ধারনা না নিয়ে ওয়েবসাইটে  301 Redirect ব্যবহার করা উচিত না।

৫৬.  এ্যাংকর টেক্সট – র‌্যাকিং সিগন্যালের জন্য এ্যাংকর টেক্সটের গুরুত্ব অনেক। মূলত আপনার লিংকের টেক্সট (এ্যাংকর টেক্সট) দেখেই সার্চ ইঞ্জিন সহজে বুঝতে পারে আপনি কী ধরনের কীওয়ার্ডের র‌্যাংক চাচ্ছেন।

তবে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, এ্যাংকর টেক্সট যেনো ওভার অপটিমাইজ না হয়ে যায়।  তাহলে ওয়েবসাইটের পেনাল্টি পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

৫৭.  Country TLD রেফারিং ডোমেইন – কোন নিদৃষ্ট দেশে ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক করানোর জন্য নেয়া লিংক গুলোর রেফারিং ডোমেইন যদি বেশিরভাগ ওই দেশের Country TLD হয় তাহলে সার্চ রেজাল্টে কিছুটা হলেও তার প্রভাব পড়ে।



ধরাযাক আপনি SEO India এই কীওয়ার্ডে র‌্যাংক করার জন্য চেষ্টা করছেন। এখন আপনি যে ব্যাকলিংক করছেন তার মধ্যে যদি রেফারিং ডোমেইর যদি  .in বেশি থাকে তারমানে গুগলের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে যে ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট একে লিংক করছে তারমানে এই সাইট টা ইন্ডিয়া সম্পর্কিত। এভাবে গুগল আপনাকে ওই নিদৃষ্ট এরিয়াতে র‌্যাংক দিবে।

৫৮.   লিংকিং ডোমেইন রিলেভেন্সি – লিংকিং ডোমেইনের রিলেভেন্সি নিয়ে এই পোষ্ট ছাড়াও পূর্বের অনেক গুলো পোষ্টে কথা বলা হয়েছে।  আপনি যে ডোমেইন থেকে লিংক নিচ্ছেন সেই ডোমেইনটি আপনার নিশ রিলেটেড কিনা, কতটুকু রিলেভেন্সি আছে তা এখন সার্চইঞ্জিন গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখে।

ফিশিং নিসের সাইটে যদি আপনি  টেকনোলজি ব্লগ থেকে লিংক নেন সেটি রিলেভেন্ট হবে না। তবে ১০০% একুরেট হতে হবে ব্যাপার টা এমন ও না। আপনি চাইলে আউটডোর নিশের সাইট থেকে আপনার ফিশিং নিশ সাইটে লিংক নিতে পারেন।

৫৯.  নেগেটিভ / পজেটিভ লিংক ভেলোসিটি – লিংক ভেলোসিটি খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। প্রত্যেক SEO এক্সপার্টের ই এ ব্যাপারে ধারনা থাকা প্রয়োজন।  লিংক ভেলোসিটি ব্যাপার টা এমন যে,  একটা নিদৃষ্ট সময়ের মধ্যে আপনি আপনার সাইটের জন্য কিরকম ব্যাকলিংক করছেন।

ধরাযাক, রহিম একটা ওয়েবসাইট বানানোর পর প্রথম ১৫দিনে ৪০ টা ব্যাকলিংক করেছে এরপর ৩মাসে কোনো ব্যাকলিংক করেনি। এরপর আবার ৭দিনে ৪৫টা ব্যাকলিংক করেছে।

অন্যদিকে করিম একটা ওয়েবসাইট বানানোর পর  প্রতি মাসে ৫-৬ টা করে ব্যাকলিংক করছে। এখানে রহিমের লিংকবিল্ডিং স্ট্রেটেজিকে কে বলা যায় নেগেটিভ লিংক ভেলোসিটি এবং করিমের লিংকবিল্ডিং স্ট্রেটেজিকে কে বলাযায় পজেটিভ লিংক ভেলোসিটি।




৬০.  অথরিটি লিংক – যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্যই অথরিটি সাইট থেকে পাওয়া লিংকের গুরুত্ব সবসময়ই  বেশি। ১০ টা লো কোয়ালিটি লিংকের থেকে ১টা অথরিটি লিংকের ভ্যালু সব সময়ই বেশি। তবে নিশ সাইটগুলোর ক্ষেত্রে অথরিটি  সাইট গুলো বেশিরভাগ সময়ই কম্পিটিটর হয়ে থাকে। তারপর ও কম্পিটিটর বা অথরিটি যাই বলিনা কেনো এ ধরনের একটা সাইট থেকে প্রাপ্ত ১টা লিংক সার্চ রেজাল্টে আপনার ওয়েবসাইটকে অনেব বড় বুষ্ট দিতে পারে।

গুগলের  গুরুত্বপূর্ন র‌্যাকিং ফ্যাক্টর” নিয়ে ৫ম আর্টিকেলটি এখানেই শেষ করছি। আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। কমেন্ট বক্সে আপনারা আপনাদের মতামত জানান।

ধন্যবাদ সবাইকে

Check Also

Google Algorithms

গুগল অ্যালগরিদম কি | গুগল অ্যালগরিদম আপডেট এ কি করবেন, কি করবেন না

81shares Love This Facebook LinkedIn Print​গুগল অ্যালগরিদম (Google Algorithm) এই শব্দটির সাথে এসইও ইন্ডাস্ট্রি তে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *