Home / এসইও / 58 SEO Glossary – এসইও টার্ম এবং ডেফিনেশন (এসইও ১০১)
SEO Glossary

58 SEO Glossary – এসইও টার্ম এবং ডেফিনেশন (এসইও ১০১)

SEO Glossary অর্থাৎ এসইও টার্ম, যা একজন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার এর অবশ্যই জানা উচিত। আজ আমি এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ৫৮টি  এসইও টার্ম নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করছি আপনাদের লেখাটি ভালো লাগবে। 

১. অ্যালগরিদম

গুগলের অ্যালগরিদম (Google Algorithms) হচ্ছে একটি জটিল প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে গুগল অনলাইন ওয়েব থেকে বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধান করে এবং সেগুলি গুগল ইনডেক্স এ সংরক্ষণ করে এবং যখন কেউ গুগল সার্চ ইঞ্জিন এ কিছু লিখে সার্চ করে তখন সর্বোত্তম সম্ভাব্য ফলাফলগুলি তার ইনডেক্স থেকে অবিলম্বে প্রদান করে।

আর সহজ ভাবে বললে, অ্যালগরিদম হচ্ছে একগুছ কোড বা নীতি যার মাধ্যমে গুগল তার সকল কাজ সঠিক ভাবে সম্পন্ন করে থাকে।

আবার এভাবে বলা যায় যে, গুগল অ্যালগরিদম এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে গুগল ডিসিশন নেয় যে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ (SERPs) এ কোনো রেজাল্ট টি আগে দেখানো হবে।

২. এ্যাংকর টেক্সট

এ্যাংকর টেক্সট (Anchor Text) হচ্ছে ক্লিক করা যায় এমন একটি টেক্সট যেখানে হাইপারলিংক করা থাকে।  ব্যাকলিংক (ইন্টার্নাল /এক্সটার্নাল ) করার সময় লিংকের মধ্যে যে লেখা অংশটুকু থাকে সেটাই এ্যাংকর টেক্সট হিসেবে পরিচিত।

আর সহজ ভাবে বললে, যখন আমরা এক বা একাধিক শব্দকে অন্য একটি পেজের লিংকের মাধ্যমে ক্লিকএ্যাবল করি এবং ঐ পেজের সাথে একটি বন্ধন তৈরি করি, এটিই এ্যাংকর টেক্সট।

Anchor Text

৩. ব্যাকলিংক

​ব্যাকলিংক (Backlink) এসইও এর ​গুরুত্বপূর্ন র‌্যাংকিং ফ্যাক্টরের মধ্যে অন্যতম।

সহজ ভাবে বললে, একটি ওয়েবসাইটের পেজ বা পোষ্ট থেকে অন্য কোনো ​পেজ বা পোষ্ট লিংক করাকে ব্যাকলিংক বলে। এই লিংক এ্যাংকর টেক্সট এর মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এই লিংক ২ ধরনের হতে পারে:

  • ইনবাউন্ড বা ইন্টারনাল লিংক: একটি ওয়েবসাইটের পেজ বা পোষ্ট থেকে ঐ ওয়েবসাইটের অন্য কোনো পেজ  বা পোষ্ট এর সাথে লিংক করাকে ​​ইনবাউন্ড লিংক বলে।
  • আউটবাউন্ড বা এক্সটারনাল লিংক: একটি ওয়েবসাইটের পেজ বা পোষ্ট থেকে অন্য কোনো ওয়েবসাইটের পেজ বা পোষ্ট লিংক করাকে ​​আউটবাউন্ড লিংক বলে।

​৪. ​ব্ল্যাক হ্যাট ​এসইও

Black Hat SEO

​ব্ল্যাক হ্যাট ​এসইও – SEO ইন্ডাস্ট্রিতে আছে আর “ব্ল্যাক হ্যাট SEO” টার্মটি শোনেনি এমন মানুষ হয়তো খুব একটা পাওয়া যাবেনা। এটি মূলত SEO ইন্ডাস্ট্রিতে​ সবথেকে বহুল ব্যবহৃত একটি টার্ম। প্রত্যেকটি কাজের যেমন ভালো মন্দ ২টি দিক থাকে তেমনি SEO এরও ভালো মন্দ ২টি দিক আছে। “ব্ল্যাক হ্যাট SEO” মূলত SEO এর খারাপ দিক।

​অর্থাৎ ব্ল্যাক হ্যাট SEO বলতে তাই বোঝায় যা অনৈতিক এবং যে কাজগুলো সার্চ রেজাল্টকে ম্যানিউপুলেট করতে সহায়তা করে।

দীর্ঘ সময় কোনো একটি সাইট এ কাজ করার ইচ্ছে থাকলে “ব্ল্যাক হ্যাট SEO” টেকটিক গুলো কোনো ভাবেই ব্যবহার করা উচিত না কারন এরফলে ওয়েবাসইট যেকোনো বড় সমস্যার সম্মুখ্যীন হতে পারে। এমনকি “ব্ল্যাক হ্যাট SEO” ব্যাবহার করার জন্য সার্চ ইন্জিন ওয়েবসাইটকে প্যানাল্টি দিতে পারে।

​৫. ​বাউন্স রেট

একটি ওয়েবসাইটে ভিজিটর এসে অন্য কোনো পেজ ভিজিট না করে সাইট থেকে বের হয়ে যাওয়াকে ভিজিটর বাউন্স হওয়া বলে। বাউন্স হওয়ার পার্সেন্টেজকে বাউন্সরেট বলে (Bounce Rate)।

একটি ওয়েবসাইটের বাউন্সরেট জানতে হলে আপনি ঐ সাইটের গুগল এ্যানালাইটিক্স ডাটা দেখলেই পেয়ে যাবেন। Google Analytics > Audience > Overview এভাবে গেলেই দেখতে পাবেন, যদি আপনার সাইট গুগল এ্যানালাইটিক্স এ এ্যাড করা থাকে।

Bounce Rate

যদি কোনো ওয়েবসাইটের ভিজিটর হয় ১০০০ এবং ৬০০ জন ভিজিটর ই অন্য কোনো পেজে না গিয়ে ওয়েবসাইট থেকে বের হয়ে যায় তাহলে ওই সাইটের বাউন্সরেট ৬০%।

​সাইটের বাউন্সরেট এর সর্বোচ্চ মান ১০০, অর্থাৎ বাউন্সরেট যত বেশী হবে সাইটটির ট্রাফিক অবস্থা ততটাই খারাপ।

​৬. ​ব্রোকেন লিংক

​ব্রোকেন লিংকের (Broken Link) আক্ষরিক অর্থ যে লিংক কাজ করে না। লিংক করা কোনো পেজ যদি অনলাইনে লাইভ না থাকে তবে তাকে ব্রোকেন লিংক বলে।

​ধরাযাক ওয়েবসাইট A ওয়েবসাইট B কে লিংক দিয়েছে। কিছুদিন পর ওয়েবসাইট B বন্ধ হয়ে গেলো, কিন্ত ওয়েবসাইট ​A তে ঠিকই লিংক টা থেকে যাবে। লিংক থাকলেও সেই লিংক টা যেহেতু কাজ করছে না তাই এটি ব্রোকেন লিংক।

Broken Link

​৭. ​কল টু এ্যাকশান

​আর্টিকেলের শেষে বা মাঝে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের বাটন থাকে, বিশেষ করে আর্টিকেল বা ল্যান্ডিং পেজের শেষে বাটন গুলো থাকে, এগুলো কল টু ​এ্যাকশান (Call to Action) বাটন হিসেবে পরিচিত। একজন রিডার বা ভিজিটরকে একটা পেজে আনার পর আর্টিকেল বা পোষ্ট পড়ার পর, পরবর্তী কোন একশন নেয়ার জন্য যে প্রসেস টি ফলো করা হয় (পরবর্তী পেজে ক্লিক করার জন্য)  তা  কল টু এ্যাকশান (CTA) নামে পরিচিত।

​এই ছবিতে “SIGN UP” এবং “Get Templates” এই ২টি কল টু একশন বাটন।

​৮. ​ক্লিক থ্রো রেট

​Click Through Rate (CTR) হলো কোনো একটি লিংক দেখার পর ভিজিটরের সেই লিংকে ক্লিক করার রেশিও। কোনো অনলাইন মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের ইউজার এংগেজমেন্ট বোঝার জন্য ​ক্লিক থ্রো রেট বিবেচনা করা হয়।

Click Through Rate

​ধরাযাক ওয়েবসাইটের কোনো একটি লিংককে সার্চ রেজাল্ট পেজে ১০০০ বার দেখা গেছে, অর্থাৎ এখানে ইম্প্রেশন ১০০০ এবং এই লিংকটিতে ৭০ জন লোক ক্লিক করেছে। তাহলে এর CTR হবে (৭০/১০০০) x ১০০ = ৭%

​৯. ​ক্লিকবেইট

​ক্লিকবেইট (Clickbait) বলতে এমন কন্টেন্ট বোঝায় যা তৈরিই করা হয়েছে ভিজিটর এট্রাক্ট করার জন্য। এই কন্টেন্ট এর টাইটেল গুলো এমন ভাবে সাজানো হয় যাতে করে ভিজিটর বাধ্য হয় কন্টেন্টে ক্লিক করার জন্য। ক্লিকবেট ব্যাপার টা ব্লগের থেকে নিউজপেপারে বেশি ব্যবহৃত হয়।  কিছুদিন আগে একটা নিউজের টাইটেল ছিলো ঠিক এরকম “আবার মা হলেন খালেদা জিয়া” সবার মত আমিও অবাক হয়ে সেই নিউজে ক্লিক করি। পরে দেখা গেলো বিষয় হলো কোনো এক নেতা খালেদা জিয়াকে মা ডেকেছে।

কিন্তু এমন ক্লিকবেইট করে ভিজিটর সাইটে নিয়ে আসা কখনই ভালো নয়, এতে করে পেজের বাউন্সরেট আরো বেড়ে যায়।

seo clickbait

​১০. ​কস্ট পার ক্লিক

​Cost Per Click (CPC) কোনো পেইড প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইন চালালে CPC বা Cost per click কথাটা আসবে। এর অর্থ প্রতি ক্লিকের জন্য কত খরচ হলো। গুগলে যদি আপনি ১০ ডলারের এ্যাড দেন এবং সেখান থেকে ৫০টি ক্লিক পান তবে প্রতি ক্লিকের জন্য আপনার খরচ হয়েছে ২০সেন্ট। এই ২০ সেন্ট ই আপনার ​​Cost Per Click বা CPC

​১১. ​ক্রলার

ক্রলার (Crawler) কে স্পাইডার বা বোট (Bot) নামেও ডাকা হয়। এটি একটি ইন্টারনেট বোট যা বিশ্বব্যাপী ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) ব্রাউজ করে, যার উদ্দেশ্য থাকে একটিই - ওয়েব ইনডেক্স করা।

সার্চ ইঞ্জিন এবং এমন আরো কিছু সাইট রয়েছে যারা এই ক্রলার ব্যবহার করে নতুন নতুন ওয়েব কন্টেন্ট সংগ্রহ করার জন্য।

​১২. ​ডু-ফলো লিংক

​আমরা আগে জেনেছি প্রতিটি লিংক এর ২ ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে। No Follow এবং Do Follow

​Do Follow লিংক  বলতে বোঝায় একটি ওয়েবসাইট গুগল ক্রল করার সময় সেখানে কোনো লিংক থাকলে গুগল বটকে ওই লিংকেও ক্রল করতে দেয়। লিংক Dofollow না হলে ​Link Juice পাস হয় না। অর্থাৎ কোনো ওয়েবাসইট থেকে লিংক পেলে সেই লিংক Dofollow না হলে তা থেকে খুব একটা লাভ হয় না।

Dofollow Link

​১৩. ​ডোমেন

ডোমেন (Domain) বলতে আপনার ওয়েবসাইট নাম কে বোঝায়। ​ডোমেইন একটি ঠিকানা যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করতে পারেন।

​কম্পিউটার আইপি ​আ্যাড্রেস ব্যবহার করে, যা সংখ্যা সিরিজ। তবে, মানুষের পক্ষে এই সংখ্যা সংকেত মনে রাখা কঠিন। এই কারণে, ডোমেন নামগুলি আইপি ঠিকানাগুলি ব্যবহারের পরিবর্তে ডোমেন নাম ব্যবহার করে, যাতে করে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে।

​১৪. ​ডোমেন অথোরিটি

​Domain Authority (DA) - ​​হচ্ছে SEO ইন্ডাসটির একটি জনপ্রিয় টুল MOZ এর একটি প্যারামিটার। যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, ওয়েবসাইটটি কতটুকু জনপ্রিয় বা অথোরিটি সম্পন্ন। ডোমেন অথোরিটির মান ১-১০০ পর্যন্ত। এই DA এর মান যত বেশী হবে  আপনার ওয়েবসাইটটি ততো বেশী অথোরিটি সম্পন্ন।

​ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন আমার ওয়েবাসইটের ডোমেইন অথরিটি ১২। একেকটা টুলস ডোমেইন এর অথরিটিকে একেক মেট্রিক্সে প্রকাশ করে। যেমন MOZ, ​Domain Authority কে DA দিয়ে প্রকাশ করলেও Ahrefs তা DR মানে Domain Rating হিসেবে প্রকাশ করে। এলগরিদম অনুযায়ী বিভিন্ন টুলস এ ডোমেইনের অথরিটির ভিন্নতা দেখা দেয়।

​১৫. ​​ইমেইল আউটরিচ

Email outreach –ইমেইল আউটরিচ বলতে বোঝায় ইমেইলের মাধ্যমে ব্লগ মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা। বিভিন্ন করানে ইমেইল আউটরিচ করা হয়ে থাকে, যেমন- লিড জেনারেশন, গেষ্ট পোষ্ট ইত্যাদি।

​ধরাযাক আপনার একটা ওয়েবাসাইট আছে ফিশিং নিশে। সাইটের অনপেজের সকল কাজ কমপ্লিট করার পর অফপেজ এর কথা আসতেই প্রথম যেটি দরকার হবে তা হলো ব্যাকলিংক। এই ব্যাকলিংক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট মালিকদের মেইল করে নিজের ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারনা দিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে গেষ্ট পোষ্ট পাবলিশের অনুরোধ করা হয়। এই পদ্ধতিটিই হলো ইমেইল আউটরিচ।

​১৬. ​​​এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন

​Exact Match Domain (EMD) – বলতে বোঝায় এক্সাক্ট কীওয়ার্ডের ডোমেইন। মনে করুন আপনি ক্যাটফুড নিয়ে একটি ওয়েবসাইট বানাবেন। সেক্ষেত্রে সাইটের মেইন কীওয়ার্ড হবে “Cat Food” এই কীওয়ার্ডে এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন হবে – catfood.com 

যদিও বা গুগল বলেছে যে তারা এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন কে এখন আর বেশী গুরুত্ব দেয় না। এমন কি তারা এর জন্য একটি এ্যালগোরিদম আপডেটও নিয়ে এসেছে।

​১৭. ​​​ফিচার স্নিপেট

Featured Snippets হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের এমন একটি অংশ যার মাধ্যদে কোনো সার্চার যা খুজছে তা সংক্ষিপ্ত আকারে, সরাসরি সার্চ রেজাল্ট পেজেই উত্তর প্রদান করে। ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট ফলাফলের জন্য আর ক্লিক করে পেজের ভেতরে যাবার প্রয়োজনই হয় না। এটিকে পজিশন জিরো (0) বলা হয়।

​উপরের চিত্রটি লক্ষ্য করুন, এখানে অনুসন্ধানকারীকে তার প্রশ্নের উত্তর খুজতে ভিতরের কোনো পেজে যাবার প্রয়োজন নেই। কারন সে তার উত্তর পজিশন জিরো (0) তেই পেয়ে গেছে।

​১৮. গুগল

​Google -  ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন ​কিন্ত গুগলের নাম শুনেনি এমন লোক মনে হয় না খুজে পাওয়া যাবে। গুগল হচ্ছে পৃথিবীর সবথেকে বড় সার্চ ইন্জিন। ল্যারি পেজ এবং সার্জিও ব্রেইন ১৯৯৮ সালে গুগল প্রতিষ্টা করেন।  বর্তমানে বিশ্বের ১ নাম্বার সার্চ ইন্জিন, যেখানে প্রতিদিন ৩.৫ সার্চ করা হয়।

​১৯. গুগল ট্রেন্ডস

Google Trends - ​হচ্ছে গুগলের একটি ফ্রী টুল, যেটি ব্যবহার করে আমরা কোনো একটি নির্দ্দিষ্ট কীওয়ার্ডের জনপ্রিয়তা কতটুকু, বছরের কোন সময় এর চাহিদা বেশী ধাকে এবং কোন দেশে এই কীওয়ার্ড সবচেয়ে বেশী সার্চ করা হয় এ বিষয়গুলি জানতে পারবো।

Google_Trends_Example

​২০. ​গুগল এডসেন্স

​গুগল এডসেন্স (Google Adsense) গুগলের জনপ্রিয় এডভারটাইজিং প্লাটফর্ম। ব্লগ এবং ওয়েবসাইট এর মালিকরা এডসেন্স এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে থাকে। বাংলাদেশ থেকেও অনেকেই গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে। গুগল এডভারটাইজিং এ যে অর্থ ​উপার্জন করে তার ৬৮% ওয়েবসাইটের মালিকদের সাথে রেভিনিউ শেয়ার করে।  

google adsense logo

​২১. ​​গেস্ট পোষ্ট

​দিনে দিনে গুগল স্মার্ট হচ্ছে এবং লো-কোয়ালিটি  ব্যাকলিংক এর দিন শেষ হয়ে আসছে। কোয়ালিটি ব্যাকলিংক জেনারেটের সবথেকে জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে গেষ্ট পোষ্ট (Guest Post)। একই নিশের অন্য একটি ওয়েবসাইটের ব্লগে গেষ্ট রাইটার হিসেবে আর্টিকেল পাবলিশ করার পদ্ধতিকে গেষ্ট পোষ্টিং বলে। যে ওয়েবসাইটে গেষ্ট পোষ্ট করা হচ্ছে সেই আর্টিকেলে অন্যান্য রিসোর্স লিংকের পাশাপাশি নিজের ওয়েবসাইটে ব্যাংকলিংক নেয়া হয়।

​২২. হেডিং ট্যাগ

হেডিং ট্যাগ (Heading Tag) একটি ওয়েবসাইট এর HTML কোডিং এর অংশ। হেডিং ট্যাগ মোট ৬টি, H1 থেকে H6 পর্যন্ত। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে H1 ট্যাগের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী। একটি পেজের গুরুত্বপূর্ণ হেডিং গুলিকে এই ট্যাগ ব্যবহার করে আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ বোঝানো হয়।

Heading Tag

​২৩. হাইপারলিংক

​হাইপারলিংক (H​yperlink) ​ওয়েবসাইট এর HTML কোডিং এর অংশ। ​​হাইপারলিংক এর মাধ্যমে  লিংক তৈরি করা হয়, ওয়েবসাইট এর একটি পেজের সাথে অন্য পেজের বা একটি ওয়েবসাইট এর সাথে অন্য ওয়েবসাইটের।

​২৪. ইমেজ / ছবি

​ইমেজ (Image) হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট এর প্রান। সাইটের মধ্যে থাকা ছবি ইউজারের কাছে ওয়েবসাইটিকে আরো প্রানবন্ত্য করে তোলে। আর এই ইমেজ গুলিকে সঠিক ভাবে তৈরি করে সাইটে আপলোড করাকে ইমেজ অপটিমাইজেশন বলে।

​২৫. ইম্প্রেশন

​একটি লিংক বা URL তখনই ইম্প্রেশন (Impression) হিসেবে গননা করা হবে যখন এটি একজন ইউজারের জন্য ​গুগল সার্চ রেজাল্ট পেজে আসবে​। যদিও বা এই লিংকটি ইউজার রেজাল্ট পেজ স্ক্রল করে দেখুক বা নাই দেখুক, তবুও এটি একটি ইম্প্রেশন।

​২৬. ইনফোগ্রাফিক

​অনেকগুলো তথ্যের ভিজুয়াল উপস্থাপনাকে ইনফোগ্রাফিক (Infographic) বলে। বর্তমান সময়ে ইনফোগ্রাফিক খুবই জনপ্রিয়। ইনফোগ্রাফিকে অনেক ধরনের তথ্য থাকে এবং তা গ্রাফিক্সের মাধ্যমে খুব সুন্দর ​ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। ফলে ইউজাররা ভিডিও বা টেক্সট বেইজ পোষ্টের থেকে ইনফোগ্রাফিক দেখতে বেশি পছন্দ করে। নিচে একটি উদাহরন দেয়া হলো।

​২৬. ​ইনডেক্সড

​এটি একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গুগল ক্রলার বা বট যখন কোনো একটি নতুন ওয়েব পেজ যখন  ভিজিট করে তখন সে পেজটি কন্টেন্ট অ্যানালাইসিস করে এবং পেজটিকে গুগল ইনডেক্স এ সংরক্ষন করে। ইনডেক্সড পেজগুলি গুগল সার্চ রেজাল্ট পেজে দেখা যাবে, যদি সেগুলি গুগল ওয়েবমাষ্টার গাইড লাইন মেনে করা হয়।

​২৭. ​ইন্টার্নাল লিংক

​ইন্টার্নাল লিংক (Inbound Link) এর বাংলা অর্থ অভ্যন্তরিন লিংক। কোনো ওয়েবসাইটের একটি ​পোষ্ট বা পেজের সাথে ঐ সাইটের অন্য পোষ্ট বা পেজের হাইপারলিংক করাকেই ​ইন্টার্নাল লিংক (Inbound Link) বলে।

​২৮. ​​কীওয়ার্ড

সার্চ ইন্জিনে আমরা যা লিখে সার্চ করি তাই কীওয়ার্ড (Keyword)। খুব সহজ করে বললে, কীওয়ার্ড হলো এক এ একাধিক শব্দ যা আমরা সার্চ ইন্জিনে তথ্য খুজে পেতে ব্যবহার করে থাকি।

​উদাহর স্বরূপ বলা যেতে পারে, আপনার মন চাইলো পৃথিবীর সবথেকে বড় ধনী  এ্যামাজন.কম এর CEO জেফ বেজোসের  মোট সম্পত্তি কতো? কি করবেন? আপনি সাথে সাথে গুগলে সার্চ করবেন “jeff bezos net worth” এখানে jeff bezos net worth এই শব্দটিই কীওয়ার্ড।

​২৯. ​​কীওয়ার্ড ডেনসিটি

কীওয়ার্ড ডেনসিটি (Keyword Density) বলতে ওয়েবসাইটের পেজে বা পোষ্টে নির্দ্দিষ্ট এক বা একাধিক শব্দের ব্যবহারকে বোঝায়। কীওয়ার্ড ডেনসিটিকে % হিসেবে গননা করা হয়।

Keyword Density

​কীওয়ার্ড ডেনসিটি SEO তে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে,  কীওয়ার্ড ডেনসিটি বেশি বা কম ২টাই সমস্যা। তাই আর্টিকেল লেখার সময় কীওয়ার্ড ডেনসিটি ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। যদিও বা এখানে ​কীওয়ার্ড ডেনসিটির সঠিক মান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে আমি মনে করি ​কীওয়ার্ড ডেনসিটি ১%-২% এর মধ্যেই থাকাটা ভালো।

​৩০. ​​কীওয়ার্ড ​স্টাফিং

​কীওয়ার্ড স্টাফিং (Keyword Stuffing) বলতে বোঝায় একটি ​নির্দ্দিষ্ট কীওয়ার্ড আর্টিকেলে/পোষ্টে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে ব্যবহার করা। And, it, if, or এগুলো আর্টিকেলের মধ্যে বেশি থাকা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্ত যখন কোনো ওয়েবপেজে এরকম ভাবে কীওয়ার্ড দেয়া থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় এরা কীওয়ার্ড স্টাফিং করেছে (নিচের উদাহরনটি দেখুন)

Keyword_Stuffing

এখানে দেখা যাচ্ছে মাত্র ৫০ ওয়ার্ডের ছোট একটি প্যারাতে “Cheap running shoes”  কথাটি মোট ৬ বার ব্যবহার করা হয়েছে যা অস্বাভাবিক।

​একটা সময় ছিলো যখন আর্টিকেল র‌্যাংক করানোর জন্য বেশি বেশি কীওয়ার্ড ব্যবহার করতে হতো। তবে গুগল সহ ​অন্যান্য সার্চ ইন্জিন এখন অনেক স্মার্ট। তাই ওয়েবসাইটে কীওয়ার্ড স্টাফিং করলে  পেনাল্টি খাওয়ার চান্স বেড়ে যায়।  অর্থাৎ কীওয়ার্ড স্টাফিং করা একটি ব্লাকহ্যাট টেনকনিক, যা  বর্তমান ​SEO তে কোনো ভ্যালু নেই।

​৩১. ​​​ল্যান্ডিং পেজ

​পেইড (বিজ্ঞাপন) বা ফ্রি মেথডে চালানো ক্যাম্পেইনে ভিজিটর ওয়েবসাইটের যে পেজে ১ম আসে তাকে  ল্যান্ডিং পেজ (Landing Page) বলা হয়। অনলাইন মার্কেটিং এ এটি “লিড ক্যাপচার পেজ” “স্টাটিক পেজ” কিংবা “ডেস্টিনেশন পেজ” ও বলা হয়ে থাকে।

​উদাহরন স্বরুপ ধরা যাক – আমি একটি SEO কোর্স সেল করছি অনলাইনে। এখন শুরুতেই আমাকে যা করতে হবে, এই কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে হবে। ছবি, গ্রাফিক্স, ভিডিও নিয়ে একটি সুন্দর পেজ বানাতে হবে যেখান থেকে যে কেউ চাইলে আমার কোর্সটি অর্ডার করতে পারবে। এরপর আসবে প্রোমোশনের পালা। কোর্সটি  সেল করার জন্য ফেসবুক এবং গুগলে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে এবং এই বিজ্ঞাপন থেকে ট্রাফিক যে পেজে যাবে (যে পেজটি কোর্সের ডিটেইলস তথ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে) সেটিই ল্যান্ডিং পেজ।

​৩২. ​​​লিংক বিল্ডিং

​লিংক ​বিল্ডিং(Link Building) এক ধরনের স্ট্রেটেজি। অন্য ওয়েবাসইট থেকে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য লিংক তৈরি করার প্রক্রিয়ার নামই লিংক ​বিল্ডিং।

​গেষ্ট পোষ্টিং, ফোরাম পোষ্টিং, ব্লগ কমেন্টিং,  আর্টিকেল এবং ইনফোগ্রাফিক সাবমিশন এগুলো লিংক বিল্ডিং স্ট্রেটেজির অংশ।

​আপনি দেখতে পারেন: লিংক বিল্ডিং কৌশল যা অনেক বেশী কার্যকর

​৩৩. এলএসআই

​এলএসআই অর্থাৎ Latent Semantic Indexing বলতে কোনো একটি কীওয়ার্ডের অনুরুপ বা কিছুটা পরিবর্তীত রুপকে বোঝায়।

যেমন: Keyword Research Tool এটি যদি আমার কীওয়ার্ড হয় তাহলে এর LSI হিসেবে আমি "Best Keyword Research Tool", "Keyword Research Tool for beginners" অথবা "Google Keyword Planner" বলতে পারি। এগুলি সবই হচ্ছে Keyword Research Tool এর LSI ভার্সন।

​LSI ​​​কীওয়ার্ড খুজে বের করার জন্য LSI Graph এই টুলটি ব্যবহার করতে পারেন।

​৩৪. লোকাল এসইও

​একটি নির্দ্দিষ্ট এলাকার জন্য করা SEO কে “​Local SEO” বলে। সাধারন  “লোকাল ​এসইও” একটু পারসোনালাইজ এবং এরিয়া বেইজ হয়।

​ধরা যাক, কেউ একজন যদি নিউ ইয়র্ক থেকে “best wedding photographer in new york” লিখে সার্চ দিলো। তাহলে তাকে নিউ ইয়র্কের আশেপাশে যে ফটোগ্রাফার আছে তাদের রেজাল্ট দেখানো হবে। এখানে লস এন্জেলেস কিংবা টেক্সাসের কোনো ওয়েডিং ফটোগ্রাফারের রেজাল্ট দেখানো হবে না।

​​৩৫. লং টেইল ​​​কীওয়ার্ড  

​সাধারনত ২ বা ২ এর অধীক শব্দ বিশিষ্ট কোনো ​​​কীওয়ার্ড কেই লং টেইল ​​​কীওয়ার্ড (Long Tail Keyword) বলে।

লং টেইল কীওয়ার্ড এর অসুবিধা হলো, এর সার্চ ভ্যালু কম থাকে। কিন্তৃ সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এইকীওয়ার্ড এর কম্পিটিশন তুলনা মূলক কম থাকে এবং এই কীওয়ার্ড ব্যবহার করে টার্গেটেড কাষ্টমারের কাছে পৌছানো যায়।

যেমন: SEO Training এই কীওয়ার্ড এর লং টেইল হবে, Best SEO Training Institute অথবা, SEO Training Center in Dhaka

​​৩৬. মেটা ডেসক্রিপশন

​সার্চ ইঞ্জিনে কোনো একটি সার্চ ​কীওয়ার্ড সার্চ করার পর আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট পেয়ে থাকি, যেখানে শুরুতে ওয়েবসাইট গুলোর টাইটেলে এবং টাইটেলের নিচে URL থাকে। ঠিক এরপর ১৫০-১৬০ ক্যারেক্টারের একটা শর্ট ডেসক্রিপশন থাকে। এটিই মূলত মেটা ডেসক্রিপশন হিসেবে পরিচিত।

Meta_Description_Example

​​৩৭. ​মোবাইল ফ্রেন্ডলি

মোবাইল ফ্রেন্ডলি (Mobile Friendly) বলতে বুঝানো হয় ওয়েবসাইট বা ওয়েবসাইটের পেজটি মোবাইল স্ক্রিনের জন্য ফ্রেন্ডলি কিনা। বর্তমানে গুগল মোবাইল ফাস্ট ইন্ডেক্সিং চালু করেছে। সার্চ রেজাল্টের বড় একটি অংশ যেহেতু মোবাইল থেকে সার্চ করে ওয়েবাসইটে যায় তাই ওয়েবাসইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি হওয়া আবশ্যক।

​আপনার ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা তা গুগলের তৈরি একটি টুলস দিয়েই চেক করে নিতে পারেন। ওয়েবসাইট মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা তা চেক করতে এই লিংকে ক্লিক করুন -
গুগল মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেষ্ট টুল

​​৩৮. ​নেগেটিভ এসইও

​অনৈতিক এবং ব্লাকহ্যাট টেকনিক ইউজ করে কম্পিটিটর কিংবা অন্য কারো ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক করা  রেজাল্ট থেকে (আউট র‌্যাংক) পিছনে ফেলার জন্য যে টেকনিক ইউজ করা হয় তা নেগেটিভ SEO হিসেবে পরিচিত।

​নেগেটিভ SEO এর উদাহরন: হাজার হাজার, শত শত, স্প্যামি লিংক তৈরি করা। কন্টেন্ট কপি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া।

​​৩৯. ​​নো-ফলো লিংক

​SEO ইন্ডস্ট্রিতে বহুল ব্যবহৃত টার্মের মধ্যে অন্যতম একটি টার্ম। এটি একটি অপশনাল HTML attribute, তবে অপশনাল বলে এর গুরুত্ব কিন্ত কম না।

​ওয়েবসাইটে তৈরি করা বাই ডিফল্ট সব লিংক ই ফলো / ডু ফলো লিংক, এর মানে সার্চ ইন্জিন যখন আপনার সাইট ক্রল করে তখন সে কোনো ডুফলো লিংক পেলে লিংকের মাধ্যমে ওই ওয়েবসাইটে ভিজিট করে এবং ডুফলো লিংক গুলো একেকটা ভোট হিসেবে গননা করা হয়। আর নো ফলো লিংক মানে সার্চ ইন্জিনকে বোঝানো যে ওই পেজটি নতুন করে ক্রল করার কোনো প্রয়োজন নেই।

nofollow backlink

খুব সহজেই এট্রিবিউটের মধ্যমে ম্যানুয়ালী লিংক নো ফলো করা যায়। লিংকের মধ্যে  rel=”nofollow” লিখলে ওই লিংক নো ফলো হিসেবে কাউন্ট হবে।

<a href=”http://wikipedia.org/” rel=”nofollow”>Wikipedia</a>

​আপনারা যারা ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন তারা এই প্লাগিন ব্যবহার করে খুব সহজেই লিংক এর এট্রিবিউট পরিবর্তন করতে পারবেন।

​​৪০. ​​অন-পেজ এবং অপ-পেজ এসইও

নিজের ওয়েবসাইটের মধ্যে যতটুকু কাজ করতে হয় এটিকে অনপেজ SEO বলে, টাইটেল, কীওয়ার্ড ঠিক মত দেয়া, ইমেজ অপটিমাইজ করা, ইন্টার্নাল লিংক করা, এগুলো অনপেজ এর মধ্যে পড়ে।

​ ​বিস্তারিত জানুন: On-Page SEO এর ৮ টি মারাত্মক ভুল

On-page and Off-page SEO

​আর নিজের ওয়েবসাইটের বাইরে অণ্য ওয়েবসাইটে নিজের সাইটের জন্য লিংক তৈরির স্ট্রেটেজি কে অফপেজ SEO বলে।গেষ্ট পোষ্ট, কমেন্ট ব্যাকলিংক, কোয়েশ্চেন এনসার সাইটের ব্যাকলিংক এগুলো অফপেজের অংশ।

বিস্তারিত জানুন: অফপেজ এসইও (Off-Page SEO) কৌশল

​​৪১. ​অর্গানিক ভিজিটর

​পেইড প্রোমোশন কিংবা কোনো অর্থ খরচ ছাড়া যে ট্রাফিক ওয়েবসাইটে আসে সেটিই অরগানিক ট্রাফিক। SEO করার পর ওয়েবসাইট র‌্যাংক করার পর সাইটে যে ​ভিজিটর আসে তা অর্গানিক ​ভিজিটর।

​​৪২. ​​আউটবাউন্ড লিংক

​অন্য ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া কিংবা নিজের ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটকে লিংক দেয়টাই আউটবাউন্ড লিংক (Outbound Link)। একে আবার এক্সটারনাল লিংকও বলে।

​ ধরা যাক, আপনার ওয়েবসাইটের একটি পোষ্টে ৩টা লিংক। ২টা আপনার ওই ওয়েবাসইটের ই ২টা পোষ্টে আরেকটি অন্য একটি ওয়েবাসইটের। আপনার ওয়েবাসাইটের লিংক ২টা ইনবাউন্ড লিংক এবং বাইরের ওয়েবসাইটের লিংকটির নাম আউটবাউন্ড লিংক।

​​৪৩. ​​পেইজ অথোরিটি

​SEO ​Glossary লিস্টের ১৪ নাম্বারে আমরা ডোমেইন অথরিটি সম্পর্কে জেনেছি। ​​​​পেইজ অথরিটি অনেকটা ডোমেইন অথরিটির মতই। ডোমেইন অথরিটি বলতে ওভারঅল ডোমেইন এর ​অথরিটি বোঝানো হয়। আর ​​​পেইজ অথরিটি বলতে একটি ​নির্দ্দিষ্ট ​​​​পেইজ বা পোষ্টের অথরিটিকে বোঝানো হয়।

​​​পেইজ ​অথোরিটির মান ১-১০০ পর্যন্ত। এই PA এর মান যত বেশী হবে  আপনার ​​​​​পেইজ বা পোষ্টটি ততো বেশী অথোরিটি সম্পন্ন।

​​৪৪. ​​পেইজ স্পিড

​একটি ওয়েবসাইটের পেইজ লোড হতে কিরকম সময় প্রয়োজন হয় তাই পেইজ স্পিড (Page Speed) নামে পরিচিত। ওয়েবাসইটের পেইজ স্পিড যদি ভালো হয় অর্থাৎ পেজ যত তাড়াতাড়ি লোড নিবে তত ভালো।

​গুগল সম্প্রতি ঘোষনা দিয়েছে ওয়েবাসইটের পেজ স্পিড কে তারা র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে এখন বিবেচনায় নিচ্ছে।

Page loading speed

​​৪৫. ​​​রিসিপ্রোকাল লিংক

যখন ২জন ওয়েবাসইট মালিক নিজেদের চুক্তি সাপেক্ষে লিংক আদান-প্রদান করে তাকে রিসিপ্রোকাল লিংক (Reciprocal link) বলে।

​​৪৬. ​​​রিচ স্নিপেট

আপনি যখস গুগলে কিছু সার্চ করবেন এবং গুগল রেজাল্ট দিবে, ঐ সার্চ রেজাল্ট পেজের প্রতিটি রেজাল্টকে পৃথক পৃথক ভাবে Snippet বলে।

snippet Result
​এখানে গুগল গাঢ় নীল রং এ টাইটেল, সবুজ কালার এ URL এবং এর নীচে কালো রং এ ডেসক্রিপশন দেখাচ্ছে। একটি সাধারন স্নিপেট রেজাল্ট দেখতে এমন হয়।
কিন্তু একটি Rich Snippet দেখতে একটু ভিন্ন হয়, যেমন:
Rich Snippet

​এখানে টাইটেল, ইউআরএল এবং ডেসক্রিপশন এর পাশাপাশি আরো একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, যেটি দ্বারা এই SEO Course টিকে রেটিং দিয়ে বোঝানো হয়েছে।

​​৪৭. ​​​​SERP

​SERP শব্দের পূর্ন অর্থ  Search Engine Result Page, কোনো একটি কীওয়ার্ড লিখে সার্চ ইন্জিনে সার্চ করলে আমরা যে রেজাল্ট পাই (সাধারনত ১-১০টি রেজাল্ট) এই পেজকে   SERP বা Search Engine Result Page বলে।

​​৪৮. ​​​​সিকিউর হাইপারটেক্স ট্রান্সফার প্রোটোকল

যখন আমরা কোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করি তখন  ওয়েব এড্রেসের আগে http / https এই ২টি শব্দের ১টি লেখা থাকে। https সম্পর্কে জানার আগে আমাদের জানতে হবে http সম্পর্কে:

HTTP এর পূর্ন অর্থ Hyper Text Transfer Protocol, অর্থাৎ Hyper Text Transfer করার জন্য যে Protocol ব্যাবহৃত হয় তাই  http। এখানে Hyper Text বলতে ওয়েবসাইটের টেক্সট, লিংক, এবং ওয়েব বেইজ ভিডিও অডিও ছবি এসবকে বোঝায়।

চলুন এবার জেনে নেই https সম্পর্কে : HTTPS এর পূর্ন অর্থ Hyper Text Transfer Protocol Secure, অর্থাৎ Hyper Text Transfer Protocol সিস্টেমের  Secure ই https হিসেবে পরিচিত। কোনো ওয়েবসাইটে https থাকা মানে ওই ওয়েবসাইটের ডাটাগুলো  Encrypted হয়ে আদান প্রদান হয়। এর ফলে ডাটাগুলো সিকিউর থাকে। https বর্তমানে গুগলের র‌্যাকিং ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়।

গুগলের আরো গুরুত্বপূর্ন র‌্যাকিং ফ্যাক্টর নিয়ে আমার লেখা সিরিজ আর্টিকেল গুলো দেখতে পারেন এখান থেকে

​​৪৯. ​​​​সাইটলিংক

বিভিন্ন সময় দেখা যায়, গুগল সার্চ রেজাল্টে মেইন ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের ভিতরের অন্যান্য পেজের লিংক শো করে। নিচের স্ক্রিনশটি দেখুন, যেখানে Khan IT লিখে সার্চ করলে গুগলে এই রেজাল্টটি দেখতে পাবেন।

​এখানে দেখতে পাচ্ছেন ​Khan IT সার্চ কীওয়ার্ডে আমর ওয়েবসাইট এর পাশাপাশি ওয়েবসাইটের ​এর অন্য কিছু পেজের লিংকও শো করছে। এগুলোই সাইটলিংক (Sitelinks) কিংবা গুগল সাইটলিংক হিসেবে পরিচিত।

​​৫০. ​​​​স্ট্যাটাস কোড ৪০৪

​​ওয়েবপেজ ভিজিট করার সময় বিভিন্ন ধরনেন এরর দেখা দেয়। স্টাটাস কোড 404 তার মধ্যে অন্যতম। এটি মূলত একটি এরর। স্টাটাস কোড 404 ছাড়াও এটি HTTP 404, Page Not Found এরর নামে পরিচিত।

​​৫১. ​​​​টেকনিক্যাল এসইও

​ SEO এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ন অংশের মধ্যে টেকনিক্যাল SEO অন্যতম।  ওয়েবপেজকে সার্চ ইন্জিনের ক্রল এবং ইন্ডেক্স ইশুগুলো নিয়ে মূলত টেকনিক্যাল SEO কাজ করে। সহজ ভাবে বলতে গেলে ওয়েবসাইটের ইনফ্রাস্টট্রাকচার অংশ নিয়ে কাজ করাটাই  টেকনিক্যাল SEO এর প্রধান কাজ। 

​​৫২. ​URL

​যে কোনো ওয়েবএ্যাড্রেসের নামকেই URL বলে। যেমন, আপনি আমার যে ওয়েবসাইটে আছনে এটির URL হলো www.mdfarukkhan.com/bangla । এর পূর্ন অর্থ হচ্ছে: Uniform Resource Locator (URL)

​​৫৩. ​ইউজার ফ্রেন্ডলি

​একটি ​ওয়েবসাইট তৈরিই করা হয় ইউজার এর জন্য। তাই একজন ইউজার যখন সাইটটিতে আসে সে যেনো সম্পূর্ন সাইটটি ভালো ভাবে ব্যবহার করতে পারে বা বুঝতে পারে, ​ এটিকে বলা হয় ইউজার ফ্রেন্ডলি। ভিজিটর বা ইউজাররাই ওয়েবসাইটের প্রান তাই ওয়েবসাইট সবসময়ই ইউজার ফ্রেন্ডলি হওয়া আবশ্যক।

​​৫৪. ​​হোয়াইট হ্যাট এসইও

SEO Glossary এর ৪ নম্বর লিস্টে আমরা জেনেছি ব্লাক হ্যাট SEO সম্পর্কে। ব্লাক হ্যাট SEO এর ঠিক উল্টোটা হলো হোয়াইট হ্যাট SEO। সার্চ ইঞ্জিনের পলিসি এবং রুলস মেনে ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করার জন্য যে স্ট্রেটেজি বা টেকনিক ব্যবহার করা হয় তাই হোয়াইট হ্যাট SEO নামে পরিচিত।

​হোয়াইট হ্যাট SEO এর পাশাপাশি এটি ইথিক্যাল SEO হিসেবেও পরিচিত।

​​৫৫. ​ইয়ানডেক্স

ইয়ানডেক্স (Yandex) একটি রাশিয়ান ইন্টারনেট কোম্পানী। তারা ইন্টারনেট রিলেটেড প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস দিয়ে থাকে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ইনফরমেশন সার্ভিস, ই-কমার্স, নেভিগেশন, মোবাইল এপ্লিকেশন এবং অনরাইন এডভারটাইজিং। সব মিলিয়ে এরা ৭০টির ও বেশি সার্ভিস প্রদান করে থাকে।  Yandex রাশিয়ার গুগল হিসেবে বেশি পরিচিত।

​​৫৬. XML Sitemap

একটি ভাল এক্সএমএল সাইটম্যাপ আপনার ওয়েবসাইটের রোডম্যাপ হিসাবে কাজ করে, যা আপনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পেইজগুলিতে Google কে পৌছাতে সাহায্য করে।

​আপনি অবশ্যই চাইবেন যে গুগল আপনার ওয়েবসাইটের সকল গুরুত্বপূর্ণ লিংকগুলিকে ক্রল করুক এবং ইনডেক্স করুক। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন অনেক পেইজ থাকে যেগুলি কোনো ইন্টারনাল লিংক ছাড়াই থাকে, ঐসকল পেজকে খুজে পাওয়াটা একটু কঠিন হয়ে যায়। XML Sitemap আপনার ওয়েবসাইটের সকল গুরুত্বপূর্ণ লিংকগুলিকে লিষ্টকরে গুগলের কাছে সাবমিট করে, যার ফলে গুগল সহজেই সব পেজগুলিকে ইনডেক্স করতে পারে।

​​৫৭. ​ইয়াহু

ইয়াহু এপ্রিল ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু করে এবং ৯০ এর দশকের একটি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন এবং পোর্টাল। 

​শুরুতে ইয়াহু সার্চ মানুষ দ্বারা চালিত ছিল। ২০০০ সালের জুন মাস থেকে গুগল এর মধ্যমে ইয়াহু তার অরগানিক সার্চ রেজাল্ট দেখানো শুরু করে এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত এটি চলে। এরপর ইয়াহু তার নিজের সার্চ টেকনোলজি ব্যবহার শুরু করে কিন্তু ২০১০ সালে ইয়াহু মাইক্রোসফট এর সার্চ ইঞ্জিন বিং এর সাথে যুক্ত হয়ে যায়। 

​​৫৮. ​ইয়োস্ট এসইও

​SEO ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত প্লাগিনের নাম Yoast SEO। এই প্লাগিনের মাধ্যমে খুব সহজে OnPage SEO রিলেটেড সমস্যা গুলো সমাধান করা যায়। এটি খুবই ইউজার ফ্রেন্ডলি একটি প্লাগিন। Yoast SEO একটি শক্তিশালী SEO টুল যার মাধ্যমে কম সময়ে এবং সহজে SEO সম্পর্কিত সমস্যা গুলো সমাধান করা যায়।

আশা করছি পোস্টটি যারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন আসছেন তাদের উপকারে আসবে। আপনার যদি পোস্টটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অব্যশই পোষ্টটি শেয়ার করবেন, যাতে করে অন্যরাও জানতে পারে। আর আপনার কোনো কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট এ জানাতে পারেন। আমি চেষ্টা করবো সঠিক উত্তর দেয়ার জন্য।

​ধন্যবাদ পোস্টটি পড়ার এবং শেয়ার করার জন্য।

Check Also

Google Algorithms

গুগল অ্যালগরিদম কি | গুগল অ্যালগরিদম আপডেট এ কি করবেন, কি করবেন না

81shares Love This Facebook LinkedIn Print​গুগল অ্যালগরিদম (Google Algorithm) এই শব্দটির সাথে এসইও ইন্ডাস্ট্রি তে …

4 comments

  1. Thank you very much.

  2. ৫৫ এবং ৫৭ নম্বর পয়েন্ট এ একই তথ্য চোলে আসছে। রিভিসন দেয়ার অনুরোধ রইলো।

  3. Thanks, sir for your kind information.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *